রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ৪ শর্ত

November 11, 2017 at 10:09:44 PM |

নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে চারটি শর্তের কথা বলেছে মিয়ানমার সরকার। ইয়াঙ্গুনে শুক্রবার ভারত-মিয়ানমার আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশটির নতুন এই অবস্থানের কথা জানিয়েছে কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার। এদিকে, ভিয়েতনামে এক বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে অং সান সু চির অবস্থান জানতে চেয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।

অ্যাপেক সম্মেলনে অংশ নিতে ভিয়েতনামে অবস্থান করছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ও  মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি।  রোহিঙ্গা ইস্যুতে সেখানেই বৈঠক করেন দুই নেতা। প্রায় ৪৫ মিনিটের বৈঠকের মূল বিষয় ছিল রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের বিষয়টি।

কানাডার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য মতে,বৈঠকে ট্রুডো-সুচি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কানাডা প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত বব রে। যিনি স্বচক্ষে রোহিঙ্গা নির্যাতনের দৃশ্যগুলো ট্রুডোকে অবহিত করেছেন। বব রে সাংবাদিকদের জানান, রাখাইনে নিপীড়ন বন্ধ না হওয়ার কারণ সম্পর্কে সুচির কাছে জানতে চাওয়ার পাশাপাশি সংকট সমাধানের পথ নিয়েও কথা বলেছেন জাস্টিন ট্রুডো।

এদিকে শুক্রবার ইয়াঙ্গুনে ভারত-মিয়ানমার সম্পর্ক নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ইউ কিইয়াও জেয়া বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে চারটি শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী পত্রিকা আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

চার শর্তের অন্যতম হচ্ছে- রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে দীর্ঘদিন বসবাস করছেন তার প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে। আর বাংলাদেশে জন্ম নেয়া শিশুদের বাবা-মা দুজনেই মিয়ানমারের স্থায়ী বাসিন্দা তা প্রমাণ করতে হবে।

কিন্তু বাংলাদেশে উদ্বাস্তু জীবন কাটানো ১০ লাখ রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের শর্তপূরণ যে দুঃসাধ্য,তা অনেক কূটনীতিকই স্বীকার করেছেন। তারা বলছেন, সেনাবাহিনীর বর্বরতা থেকে প্রাণ বাঁচাতে যারা ভিটেমাটি ছেড়ে বাংলাদেশে এসেছেন, তাদের কাছে মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে প্রমাণের কোনো নথি না থাকাটাই স্বাভাবিক।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের প্রথম আসা শুরু ১৯৭৮ সালে। এরপর বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনের মুখে শরণার্থী জীবনে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ৪ লাখ ছাড়ায়। গত ২৫ অগাস্ট রাখাইনে সেনা নির্যাতন শুরু হলে ফের নামে রোহিঙ্গা ঢল। গত আড়াই মাসে এ সংখ্যা ৬ লাখ ছাড়িয়েছে।