রাখাইনে সহিংসতা বন্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের তাগিদ

November 7, 2017 at 4:29:32 PM |

রাখাইনে দমন-পীড়ন ও সহিংসতা বন্ধে মিয়ানমারকে তাগিদ দিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে সোমবার মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয় জাতিসংঘ। তবে এই প্রস্তাবে উদ্বেগ জানিয়ে দেশটির এক প্রতিনিধি বলেছেন, এতে সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে উল্টো রাজনৈতিক চাপ তৈরি করবে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে গেল দুমাসে নিরাপত্তা পরিষদে কয়েক দফা বৈঠক হলেও তা কেবল সীমাবদ্ধ ছিলো সমালোচনা আর সঙ্কট সমাধানের তাগিদের মধ্যে। তবে সোমবারের বৈঠকে প্রথম বারের মতো 'প্রেসিডেন্সিয়াল স্টেটমেন্ট'গ্রহণ করে জাতিসংঘ। সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের ওপর সামরিক বাহিনীর বলপ্রয়োগ বন্ধে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

নিরাপত্তা পরিষদ ও জাতিসংঘে ইতালির রাষ্ট্রদূত সেবাস্তিয়ানো কার্ডি বলেন, 'রাখাইনে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর রোহিঙ্গা বিরোধী অভিযান ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় বিশ্ব গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। নারী ও শিশুদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা স্বচ্ছভাবে তদন্তে মিয়ানমারকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

তবে বৈঠকে রোহিঙ্গা নিধনের অভিযোগ অস্বীকার করে রাখাইনে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা বিরাজ করছে বলে দাবি করেন জাতিসংঘে মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধি হাউ দু সুয়ান। তিনি বলেন,কোনো প্রমাণ ছাড়াই সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে যার কোনো ভিত্তি নেই। রাখাইনে অস্থিরতার জন্য রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি এবং বাংলাদেশকেও দায়ী করেন তিনি।

তার এ বক্তব্যের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন বলেন, মিয়ানমারের অসহযোগিতার কারণেই রোহিঙ্গা সমস্যা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

চলমান সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব উত্থাপন করে ব্রিটেন ও ফ্রান্স। যদিও প্রস্তাবটি পাস হতে হতেও ভেস্তে যায় চীন ও রাশিয়ার বিরোধিতার কারণে। মাসুদ বিন মোমেন বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতিকে বাংলাদেশ সাধুবাদ জানায়। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে অগ্রগামী হলেও, মিয়ানমারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া মিলছে না।

এদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদ যে তাগিদ দিয়েছে তাতে উদ্বেগ জানিয়েছে মিয়ানমার। দেশটির এক শীর্ষ কর্মকর্তার মতে, চাপ দিয়ে সমস্যা সমাধান হবে না বরং রাজনৈতিক সঙ্কট ঘণীভুত হবে।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে সামরিক দমনপীড়ন শুরু হলে বাংলাদেশমুখে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে। একে 'জাতিগত নিধন' আখ্যা দিয়ে মিয়ানমারের সমালোচনা করে আসছে জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো।