অন্যান্যঅপরাধআইন-বিচারবাংলাদেশ

নুসরাত হত্যায় সন্দেহভাজন ২ আরো আটক

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যায় জড়িত সন্দেহে আরো দু’জনকে আটক করেছে পিবিআই।

তারা হলেন মো. শামীম (১৯) ও কামরুন্নাহার মনি (১৮)। শামীমকে সোমবার বিকেলে সোনাগাজী উপজেলার পশ্চিম তুলাতলি গ্রাম থেকে এবং কামরুন্নাহার মনিকে রাতে আটক করা হয়। ফেনী জেলা পিবিআই’র অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, আটক শামীম হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সন্দেহভাজন। আর মনি সরাসরি অংশ নিয়েছিল। তথ্য-প্রমাণসহ সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নুসরাতকে পুড়িয়ে মারতে ব্যবহৃত এক লিটার কেরোসিন তেল পলিথিনে এনে দিয়েছিলেন আটক কামরুন্নাহার মনি। তিনি নুসরাতকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়া কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি শাহাদাত হোসেন শামীমের ভাগ্নি।

এই দু’জন নিয়ে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডে ১৬ জনকে গ্রেফতার ও আটক করা হলো। এদের মধ্যে এজাহারভুক্ত সাতজন, বাকিরা সন্দেহভাজন।

এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলা, নূর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২১), পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা মাকসুদুল আলম (৪৫), জাবেদ হোসেন (১৯), মাদ্রাসার ইংরেজি অধ্যাপক আবছার উদ্দিন (৩৫) ও আলাউদ্দিন (৩০)।

এদের মধ্যে গত রোববার হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন নূর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম (২১)। আর সন্দেহভাজন হিসেবে আটক আছেন- কেফায়েত উল্লাহ (৩২), নুসরাতের সহপাঠী ও অভিযুক্ত অধ্যক্ষের ভাগ্নি উম্মে সুলতানা পপি ওরফে শম্পা (১৮), মাদ্রাসা ছাত্র নূরউদ্দিন (১৯), নূর হোসেন (২১), শহীদুল ইসলাম (১৯), জোবায়ের আহমেদ (২১), আরিফুল ইসলাম (১৯), মো. শামীম (১৯) ও কামরুন্নাহার মনি (১৮)।

প্রসঙ্গত, নুসরাত জাহান রাফি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিমের পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে এর আগেও ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে।

নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেয়া হচ্ছিল।

এরই মধ্যে গত ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এ সময় তাকে কৌশলে একটি বহুতল ভবনে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন দিয়ে আগুন দেয়া হয়।

গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন নুসরাত মারা যান। নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়ার ঘটনার পর গত ৮ এপ্রিল তার বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে সোনাগাজী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

বাংলাটিভি/রাজ

সংশ্লিষ্ট খবর

Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker