অন্যান্যদেশবাংলা

ইটভাটায় কাঠ পোড়ানোয় হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য

|| বেলাল হোসেন ||

বরগুনার আমতলী উপজেলার ১১ টি ইটভাটায় করাতকল বসিয়ে কাঠ কেটে ইট পোড়াচ্ছে। এতে সাবাড় হয়ে যাচ্ছে গ্রাম ও বনাঞ্চলের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। বিঘ্নিত হচ্ছে পরিবেশ। ইটভাটার কালো ধোয়ায় পরিবেশ দুষিত হয়ে মরে যাচ্ছে গাছপালা। বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে ইটভাটা সংলগ্ন গ্রামগুলো। এতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পরেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বনবিভাগের লোকজন ম্যানেজ করে এভাবে ইটভাটায় করাতকল বসিয়ে কাঠ কেটে ইট পোড়াচ্ছে।

জানাগেছে, আমতলী উপজেলায় সাতটি ইউনিয়নে ২৫ টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে ১১ টি ড্রাম চিমনি ইটভাটা। আমতলী সদর ইউনিয়নের নাচনাপাড়ায় এমসিকে, চাওড়া ইউনিয়নের কাউনিয়ায় জেবিবি, চন্দ্রায় এইচএলবি, পাতাকাটায় এইচবিএম, তালুকদার বাজারে এইচআরটি, কুকুয়া ইউনিয়নের রায়বালায় বিবিসিকো, হাজারটাকার বাঁধে এনবিএল ও কৃষ্ণনগরে এএমবি ইটভাটা রয়েছে।

এ ইটভাটার মালিকরা পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ আইন অমান্য করে করাতকল বসিয়ে গ্রাম ও বনাঞ্চলের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ এনে করাতকলে কেটে ইটভাটায় পোড়াচ্ছে। এতে সাবাড় হয়ে যাচ্ছে গ্রাম ও বনাঞ্চলের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। বিগ্নিত হচ্ছে পরিবেশ। ইটভাটার কালো ধোয়ায় পরিবেশ দুষিত হয়ে গাছপালা মরে যাচ্ছে। বসবাসের অনুপোযোগী হয়ে পরেছে ইটভাটা সংলগ্ন গ্রামগুলো।

প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বনবিভাগের লোকজন দেখেও না দেখার ভান করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বনবিভাগের লোকজন ম্যানেজ করে এভাবে ইটভাটায় করাতকল বসিয়ে কাঠ কেটে ইট ভাটায় পোড়াচ্ছে। প্রশাসন কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পরেছে।

ই্ট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ সালের ৬ ধারায় উল্লেখ আছে কোন ব্যাক্তি ই্টভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি হিসেবে কোন জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করতে পারবে না।  এ ধারা লঙ্ঘন করে ইটভাটায় জ্বালানি কাঠ পোড়ালে অনধিক তিন বৎসরের কারাদণ্ড বা অনধিক তিন লক্ষ টাকা অর্থদন্ত ও উভয় দন্ডে দণ্ডিত হইবেন। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনের  ৮ ধারায় আরো  উল্লেখ আছে আবাসিক, সংরক্ষিত বা বাণিজ্যিক এলাকা ও কৃষি জমিতে ইটভাটা স্থাপন করতে পারিবে না। এ ধারা লঙ্ঘন করে ইটভাটা স্থাপন করলে অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক পাঁচ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

কিন্তু ইটভাটার মালিকরা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও  বনবিভাগের লোকজনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আইনের তোয়াক্কা না করে ইটভাটা স্থাপন করে ইট পোড়াচ্ছে। কাঠ পোড়ানোর আইন অমান্য করে ভাটায় ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে করাতকল।

মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চন্দ্র গ্রামে এইচএলবি, কাউনিয়া গ্রামে জেবিবি ও রায়বালা গ্রামে বিবিসিকো ইটভাটায় কাঠ পোড়ানোর আইন ভেঙ্গে ভাটায় ভেতরে করাতকল স্থাপন করা হয়েছে। ইটভাটায় কালো ধোয়ায় এলাকা গাছপালা কালচে হয়ে গেছে। গ্রামগুলোতে মানুষের বসবাসের অনুযোযোগী হয়ে পরেছে। দেদারছে করাতকলে কাঠ কেটে ই্টভাটায় পোড়াচ্ছে।

নাম প্রকাশে ওই ইটভাটার কয়েকজন শ্রমিক বলেন, কে কি করবে। প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের লোকজন এসে টাকা নিয়ে যায়। তাদের টাকা দিলে কোন কিছুরই প্রয়োজন হয়না। তারা আরো বলেন প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগ ব্যবস্থা নিলে ইটভাটায় এভাবে কেউ কাঠ পোড়াতে পারে না।

গাজীপুর গ্রামের সোহেল রানা, কাউনিয়া গ্রামের নজরুল ইসলাম ও চন্দ্রা গ্রামের এমাদুল ইসলাম জানান, ইটভাটার মধ্যে করাতকল বসিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ইটভাটায় পোড়াচ্ছে। ইটভাটার কালো ধোয়ায় বাড়ীতে বসবাস করতে সমস্যা হচ্ছে। তারা আরো জানান, অবৈধভাবে এভাবে ইট পোড়ালেও প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।  বিভিন্ন দপ্তর থেকে লোকজন এসে টাকা নিয়ে চলে যায়। এ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলেও কোন কাজ হয় না।

চাওড়া চন্দ্র গ্রামের এইচএলবি ইট ভাটার মালিক মোঃ হারুন অর রশিদ ইটভাটায় করাতকল বসানোর কথা স্বীকার করে বলেন, প্রশাসনের লোকজন ইটভাটায় আসলেও তারা করাতকল সরাতে বলেনি।

আমতলী বন কর্মকর্তা  সাইদুর রহমান আকন বলেন, ইটভাটায় করাতকল বসিয়ে কাঠ কাটায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে।  করাতকল উচ্ছেদের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবদুল হালিম বলেন, আমতলীতে ১১ টি অবৈধ ড্রাম চিমনি ইটভাড়া রয়েছে। ওই ইটভাটা গুলোতে অভিযান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সরোয়ার হোসেন জানান, ড্রাম চিমনি ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাটিভি/প্রিন্স

সংশ্লিষ্ট খবর

Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker