অন্যান্যদেশবাংলাবাংলাদেশ

কবি আল মাহমুদ মারা গেছেন

না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন সোনালী কাবিন খ্যাত বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রবাদ পুরুষ কবি আল মাহমুদ। শুক্রবার রাত ১১টা ৫ মিনিটে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

আল মাহমুদ দিবাগত রাত ১১টা ৫ মিনিটে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এর আগে রাত সোয়া ১০টায় তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। নিউমোনিয়াসহ বার্ধ্যক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন কবি আল মাহমুদ। গত শুক্রবার হাসপাতালে ভর্তির পর কবিকে শনিবার প্রথমে সিসিইউতে নেওয়া হয়। এরপর অবস্থার অবনতি হলে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। তিনি ওই হাসপাতালের নিউরোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল হাইয়ের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। পরে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই মৃত্যুর কাছে হার মানেন তিনি।

ড. আব্দুল হাই বলেন, আল মাহমুদের নিউমোনিয়া বৃহস্পতিবার থেকে বেড়ে গিয়েছিল। শুক্রবার সকাল থেকে নতুন করে প্রেসার কমে যেতে শুরু করে। তবে ওষুধ দিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। এরপর রাতে হঠাৎ করে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। এতে তার হার্টবিট বন্ধ হয়ে যায়। কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে প্রেসার মেইনটেন হয় না। তখন ব্রেইন, কিডনি অক্সিজেন সাপ্লাই বন্ধ হলে মানুষ ক্লিনিক্যালি মারা যায়। তারও সেটাই হয়েছে।

বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে সক্রিয় থেকে যিনি আধুনিক বাংলা কবিতাকে নতুন আঙ্গিকে, চেতনায় ও বাকভঙ্গিতে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ করেছেন, তিনি হচ্ছেন কবি আল মাহমুদ। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবিও ছিলেন তিনি। এ ছাড়া, তিনি ছিলেন একাধারে ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্পকার, শিশুসাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

কবি আল মাহমুদ কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার সাধনা হাই স্কুল এবং পরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড হাই স্কুলে পড়ালেখা করেন। মূলত এই সময় থেকেই তার লেখালেখির শুরু। আল মাহমুদ বেড়ে উঠেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তিনি মধ্যযুগীয় প্রণয়োপাখ্যান, বৈষ্ণব পদাবলি, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল প্রমুখের সাহিত্য পাঠ করে ঢাকায় আসার পর কাব্য সাধনা শুরু করে একের পর এক সাফল্য লাভ করেন। আল মাহমুদ দৈনিক মিল্লাত পত্রিকায় প্রুফ রিডার হিসেবে সাংবাদিকতা জগতে পদচারণা শুরু করেন। ১৯৫৫ সাল কবি আব্দুর রশীদ ওয়াসেকপুরী কাফেলার চাকরি ছেড়ে দিলে তিনি সেখানে সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন।

কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। লোক লোকান্তর (১৯৬৩), কালের কলস (১৯৬৬), সোনালী কাবিন (১৯৬৬) ইত্যাদি আল মাহমুদের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। আল মাহমুদ ১৯৫৪ সালে লেখালেখির সূত্র ধরে ঢাকা আসেন। কবি আব্দুর রশীদ ওয়াসেকপুরী সম্পাদিত ও নাজমুল হক প্রকাশিত সাপ্তাহিক কাফেলায় লেখালেখি শুরু করেন। তার কাব্যগ্রন্থ লোক লোকান্তর (১৯৬৩) তাকে স্বনামধন্য কবিদের সারিতে স্থান করে দেয়।

সাহিত্যে অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মান একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার, শিশু একাডেমি (অগ্রণী ব্যাংক) পুরস্কার, ফররুখ স্মৃতি পুরস্কার, জীবনানন্দ দাশ স্মৃতি পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন এই কবি।

বাংলাটিভি/রাজ

সংশ্লিষ্ট খবর

Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker