দেশবাংলা

চেয়ারম্যানের শূন্য পদে থমকে আছে উন্নয়ন!

||বেলাল হোসেন মিলন, বরগুনা||

বরগুনার তালতলী উপজেলা পরিষদের সকল কার্যক্রম আইনি জটিলতার কারণে চার মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। টিআর, কাবিখা, জাইকা প্রকল্পের ৫০ লাখ টাকাসহ অন্যান্য প্রকল্পের কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে । নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের অর্থ খরচ করতে না পারলে নিয়মঅনুযায়ী তা ফেরত যাবে। এতে একদিকে নবগঠিত উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার না হওয়ারও আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। সেই সাথে চার মাস ধরে বন্ধ রয়েছে উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা।

অসদাচরণ,দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে গত ৮ জুলাই তালতলী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মনিরুজ্জামান মিন্টুকে স্ব-পদ থেকে অপসারণ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ।

৮ জুলাই ওই বিভাগের উপ-সচিব আনজুমান আরা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরপর ২৪ জুলাই উপজেলা পরিষদের এক সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান (প্যানেল চেয়ারম্যান-১) মো. খলিলুর রহমানকে আর্থিক ক্ষমতাসহ দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা রহমান।

কিন্তু ওই নির্দেশনা পাওয়ার আগেই উপজেলা চেয়ারম্যানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ আগস্ট হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলীর যৌথ বেঞ্চ ওই পদের ওপর স্থিতাবস্থার আদেশ দেন। এ আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরগুনা জেলা প্রশাসকের কাছে নির্দেশনা চেয়ে চিঠি দিলে তৎকালীন বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. মোখলেছুর রহমান ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার জন্য স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগে চিঠি দেন।

এরপর স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে কোনো ধরনের নির্দেশনা না আসায় তালতলী উপজেলা চেয়ারম্যানের পদে কেউ দায়িত্ব পালন করছেন না। ফলে পরিষদের সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

জানা গেছে, আইনি জটিলতার কারণে গত জুন মাসের পর থেকে এখন পর্যন্ত উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভা হয়নি। কারণ ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা চেয়ারম্যান। ফলে উপজেলা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বর্তমানে সরকারের দেওয়া টিআর এবং কাবিখার বরাদ্দ এলেও ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া জাইকা প্রকল্পের ৫০ লাখ টাকাসহ অন্যান্য প্রকল্পের কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। এসব প্রকল্পের টাকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খরচ করতে না পারলে ফেরত যাবে। তাই উন্নয়ন-বঞ্চিত হবে নবগঠিত তালতলী উপজেলার মানুষ। অন্যদিকে গত চার মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না উপজেলা পরিষদের কর্মচারীরা।

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান জানান, আইনি জটিলতার কারণে তাদের ভাতাসহ কর্মচারীদের বেতনও বন্ধ রয়েছে। চলছে না উন্নয়ন কার্যক্রমও। তাই দ্রুত এ সমস্যা সমাধান না হলে প্রকল্পের টাকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খরচ করতে না পারলে ফেরত যাবে বলে জানান তিনি।

উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মিন্টু বলেন, কিছু ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে আমাকে অপসারণ করা হয়েছে। তারপর আমি আদালতের নির্দেশ পেয়েও দায়িত্ব পালন করতে পারছি না। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আমাকে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হচ্ছে না।

বরগুনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। নির্দেশনা পেলেই দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বাংলাটিভি/এসএম/এবি

সংশ্লিষ্ট খবর

Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker