বিশ্ববাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস সীমান্তে ৬০৯ বাংলাদেশি আটক

চলতি বছরের এখন পর্যন্ত ৬০৯ জন বাংলাদেশিকে এ সীমান্ত থেকে আটক করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষণার পর থেকে অবৈধ অভিবাসী পারাপারের ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে লারেদো সীমান্তরক্ষী বাহিনী। গত ৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস রাজ্যের লারেদো শহরে অবৈধ পাঁচ বাংলাদেশিকে আটক করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তথ্য মতে, গত ৪ সেপ্টেম্বর রিও গ্রান্ডের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এই অবৈধ অভিবাসীদের আটক করা হয়। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তারা বাংলাদেশের নাগরিক।

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতির পরও প্রতিদিন টেক্সাস সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ ভাবে প্রবেশ করছে অনেক বাংলাদেশি। অর্থ ও জীবনবাজি রেখে মানবপাচার চক্রের প্রলোভনে পড়ে এসব বাংলাদেশি অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

সর্বশেষ ২৪ আগস্ট টেক্সাসের লারেডো এলাকা থেকে পাঁচ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে গত এক মাসে টেক্সাস সীমান্তে ৪০ বাংলাদেশি আটক হয়েছেন বলে বিভিন্ন গনমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত রক্ষী সংস্থার তথ্যমতে,গত এক বছরে টেক্সাস সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশিদের আসার সংখ্যা আগের চেয়ে তিনগুণ বেড়েছে। মেক্সিকোর মানবপাচারকারীদের কবলে পড়ে অবৈধ পথে সীমান্ত পাড়ি দিতে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। এ নিয়ে মার্কিন বর্ডার ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আগেই সতর্ক করেছে।

সীমান্ত রক্ষী সংস্থা জানিয়েছে,গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ বাংলাদেশিকে নিয়ে চলতি বছরের এখন পর্যন্ত ৫৪১ জন বাংলাদেশিকে লারেডো এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগের বছর এই সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ১৮১ জন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো।

সীমান্তে কড়াকড়ি, মৃত্যুর ঝুঁকি যতোই বৃদ্ধি পাক না কেনো বাংলাদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রবণতা কোনভাবেই কমছে না। নিউইয়র্কের ব্রুকলিন ও জ্যামাইকায় আশ্রয় নেওয়া দুজন বাংলাদেশি জানিয়েছেন, মেক্সিকোভিত্তিক আদম পাচারকারী দালালদের কথা। নিজেদের বিপদ দেখলে এরা পাচারের শিকার অসহায় মানুষকে মৃত্যুর মুখে ফেলে পালিয়ে যায়। মাঝ পথে বিপদে ফেলে দেশে-বিদেশে অবস্থানরত পরিবার বা স্বজনের কাছ থেকে এরা চাপ দিয়ে অর্থও আদায় করে থাকে। নিউইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংগফঠনগুলো বলছে,  প্রতিদিন শুধু টেক্সাস লরেডো সীমান্ত নয়, অন্য সীমান্ত দিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে আসছেন বাংলাদেশিরা। শুধু অর্থনৈতিক কারণ নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক কারনেও বাংলাদেশীরা জীবনবাজি রাখছেন।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া এসব মানুষের অধিকাংশেরই বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। মানব পাচারকারীরা নানান প্রলোভন দেখিয়ে দিনের পর দিন এসব অপকর্ম করে যাচ্ছে। আমেরিকার সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত বোর্ডার ও কাস্টম এজেন্টদের মুখপাত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, এশিয়ার দেশগুলো থেকে জংগি গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্তু লোকজন আমেরিকায় আসছে কিনা, সে ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি আমেরিকার নিরাপত্তা আর আইন শৃঙ্খলার জন্য উদ্বেগের বলেও মন্তব্য করেন বোর্ডার ও কাস্টম এজেন্টদের মুখপাত্র।

-রনক হাসান, বাংলা টিভি, ঢাকা।

সংশ্লিষ্ট খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Close