অন্যান্যজাতীয় নির্বাচনরাজনীতি

ভোট নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ বাম জোট প্রার্থীদের

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র দখল ও নানান অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ করলেন বাম জোটের প্রার্থীরা। শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাম গণতান্ত্রিক জোটের উদ্যোগে আয়োজিত গণশুনানিতে বাম জোটের প্রার্থীরা এসব অভিযোগ করেন।
এদিন, সকাল সাড়ে দশটায় অনুষ্ঠান শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত গণশুনানি চলবে বলে জানান বাম দলের নেতা-কর্মীরা। গণ শুনানিতে ১৩১ জন প্রার্থী নির্বাচনের দিনে অনিয়মের কথা তুলে ধরবেন।
সকালে, পঞ্চগড়- ২ আসনের বাম দলের প্রার্থী আশরাফুল আলম ভোটের দিনে বিভিন্ন অনিয়মের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভোটের দিনে সরকারি দলের লোকজন ভোট কেন্দ্রে জবর দখল করে রেখেছিলো। কাউকে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়নি। বিরোধী দলের কোনো পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ঠিক মত গণসংযোগ করতে দেয়নি।
গাইবান্ধা -১ আসনের প্রার্থী গোলাম রাব্বানী বলেন, ভোট গ্রহণের আগের রাতে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ব্যালট পেপারে সিল মেরে রাখা হয়েছিল। ওই দিন বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের কাউকে ভোট কেন্দ্রের আশেপাশে যেতে দেওয়া হয়নি। ভোট গ্রহণের আগের রাতে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি- ধামকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
বামজোটের প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সরকার বাম গণতান্ত্রিক জোটসহ বিরোধী দল ও জোটগুলোর কোনো দাবিই মানেনি। সরকার পদত্যাগ করেননি, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠিত হয়নি, জনগনের সমর্থনহীন বিতর্কিত সংসদ বিলুপ্ত করা হয়নি, অকার্যকর ও সরকারি দলের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়নি। সর্বোপরি নির্বাচনের টাকার খেলা বন্ধসহ অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের ন্যুনতম কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
এর পাশাপাশি বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার, হয়রানি, হুমকি শাস্তি দেওয়া অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে, দেশের অধিকাংশ এলাকায় বিরোধী দলের নেতা- কর্মীরা আতংকের মধ্যে রয়েছে।-অভিযোগ প্রার্থীদের।
দেশবাসীর প্রত্যাশা ছিলো প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিরোধী দলগুলোর সংলাপের ফলাফল হিসাবে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অনুষ্ঠানে কার্যকরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সরকার ও সরকারি দল সুষ্ঠু নির্বাচনের যুক্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত কোনো দাবিই মানেনি বলে অভিযোগ তাদের।
প্রার্থীরা আরো অভিযোগ করেন, এবারের নির্বাচনে দেখা গেছে, মনোনয়ন বাণিজ্য বড় বাণিজ্য পরিণত হয়েছে। সমগ্র নির্বাচন টাকার খেলায় পর্যবসিত হয়েছে। এ কারণে, সংগ্রামী, নিবেদিত প্রাণ পোড়খাওয়া রাজনৈতিক নেতা- কর্মীরা আজ কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। এই অবস্থা চলতে দিলে এবং এই ব্যবস্থার আমুল সংস্কার ছাড়া আগামীতে জাতীয় সংসদে আর জনগণের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের কোনো প্রতিনিধিত্ব থাকবেনা।
উক্ত গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন, ঠাকুরগাও -৩ প্রভাত সমীর, দিনাজপুর -৩ সদর বদিউজ্জামাল বাদল, নীলফামারী -৩ ইউনুস আলী, বংপুর -৩ আনোয়ার হোসেন বাবুল, কুড়িগ্রাম -২ উপেন্দ্র নাথ রায়, বগুড়া -৬ সদর আমিনুল ফরিদসহ অনেকেই।
বাংলাটিভি/পাইক

সংশ্লিষ্ট খবর

Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker