‘আমাদের যারা এতিম করেছে, তাদের ফাঁসি চাই’

বাংলা টিভি ডেস্ক: কোনো সান্ত্বনাতেই থামছে না স্বজনদের আহাজারি; প্রতিটি আর্তনাদ এখন কেবল বিচারের অপেক্ষায়। নেত্রকোনায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলীফ ফকিরের পরিবারের একমাত্র দাবি—খুনিদের যেন কোনো ছাড় না দেওয়া হয়।
নিহতের স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের যারা এতিম করেছে, তাদের ফাঁসি চাই।’ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে অবিলম্বে গ্রেফতারের জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তেলুঞ্জিয়া এলাকায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলীফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। তিনি ‘রূপসী বাংলা’ টেলিভিশনের নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন, যেখানে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করতেন।
নিহত লুৎফুজ্জামান আলীফ ফকির নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনুই গ্রামের মহব্বত আলী ফকিরের ছেলে। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে তেলুঞ্জিয়া এলাকায় বসবাস করতেন।
স্বামীকে হারিয়ে শোকাহত আনন্দিতা সাংমা বলেন, ‘আমার স্বামীকে যারা হত্যা করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই। যারা আমার দুই বাচ্চাকে এতিম করেছে, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে ফাঁসি কার্যকর করা হোক। যাতে আর কোনো সন্ত্রাসী কাউকে এভাবে হত্যা করতে না পারে।’
তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন। স্বামীকে গুলি করা হয়েছে এমন খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে স্বামীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ময়নাতদন্ত শেষে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলীফ ফকিরের লাশ তার নিজ গ্রাম শুনুইতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় স্বজন, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ জানান, নিহত সাংবাদিকের মাথা, গলা, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি গুলির আঘাত রয়েছে। ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আটজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।
স্ত্রী ও দুই সন্তানকে রেখে একজন সাংবাদিকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী ও স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মাঝে গভীর ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়েছে। নিহতের স্বজন ও সহকর্মীরা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।



