
রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ রোগির মৃত্যু, কুর্মিটোলা হাসপাতালের সামনে করোনা রোগির পড়ে থাকার চিত্র, মুগদা হাসপাতালে লাশের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানোসহ হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবা এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের কোন শেষ নেই।
তবে, বেশিরভাগ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই রোগিদের এসব অভিযোগ মানতে নারাজ। তারা বলছেন, নিয়ম মেনেই করোনার আক্রান্ত রোগিদের সেবা দেয়া হচ্ছে।
দিনকে দিন যখন সরকারি হাসপাতালগুলোর ব্যবস্থাপনার মান অবনতির দিকে তখন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আধিপত্য বেড়েছিল বেসরকারি খাত। সাধারণ রোগিরা আগেই ছুটতেন বেসরকারি হাসপাতালে। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারির এই সময়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে এখন ভিন্নচিত্র।
আক্রান্তদের অভিযোগ, করোনা আক্রান্ত রোগীদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে হাসপাতালগুলো। কেবল করোনা নয়, গত দুইমাসে অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতালে অন্যান্য রোগিদের চিকিৎসায়ও টালবাহানার অভিযোগ রয়েছে।
ভেরন এ্যান্থনি পল, ৭৫ বছর বয়সী মুক্তিযুদ্ধ ১৭ মে অসুস্থ হয়ে পরলে ভর্তি হন রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে। করোনা টেস্ট নেগেটিভ আসলেও তাকে রাখা হয় বিশেষ ইউনিটে। কিন্তু গত ২৭ মে আগুনে পুড়ে মারা যান তিনি। ঘটনার এখানেই শেষ নয় এ্যান্থনি মারা যাবার পরেও তার পরিবারকে এক লাখ ৫১ হাজার টাকার বিলের কাগজ পাঠায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
পরে, হাসপাতালকে দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশনা চেয়ে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। আগুনের ঘটনায় ইউনাইটেড হাসপাতাল, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে আগামী ১৪ জুনের মধ্যে এ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার নির্দেশও দেয় হাইকোর্ট।
ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটির প্রধান দেবাশীষ বর্ধন, জানিয়েছেন, ঘটনার জবানবন্দী নেয়া শেষ পর্যায়ে, রবিবার জমা দেয়া হবে।
এছাড়াও নিহত ভেরন অ্যান্থনি পলের মেয়ের জামাই রোনাল্ড রিকি গোমেজ বুধবার ইউনাইটেড চেয়ারম্যান, এমডি এবং সিইও’সহ পুরো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন।
অন্যদিকে, করোনা মহামারী রূপ ধারণ করার পরে বেসরকারি হাসপাতালের চেয়ে সরকারি হাসপাতালে দিকে ঝুকে পড়েন আক্রান্ত রোগি ও স্বজনরা। কিন্তু পর্যাপ্ত সেবা না দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে সরকারি হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধেও।
খলিলুর রহমান, পেশায় সাংবাদিক। করোনা পজিটিভ হলে ভর্তি হন রাজধানীর মুগদা হাসপাতালে। অভিযোগ করেন হাসপাতালে থাকা ১৯ দিনে কয়েকদিন কাটাতে হয়েছে লাশের সঙ্গে। ডাক্তারের সেবা পেয়েছেন খুব ই সামান্য পরিমাণ।
সুরুজ মিয়া, ১৩ই এপ্রিল করোনা পজিটিভ হলে তার ছেলে তাকে নিয়ে ভর্তি করান রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালের ৫ম তলায় পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে। ছেলের অভিযোগ, শতবার চেষ্টা করেও পাননি কোন ডাক্তারের দেখা পাননি তিনি। নিজ চেষ্টায় অক্সিজেন সংগ্রহ করলেও বিন চিকিৎসায়, তার বাবা মারা যায় ১৫ই এপ্রিল দুপুর ১ টায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের উপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ না থাকা এবং স্বাস্থ্যখাত নিয়ে অব্যবস্থাপনার কারণেই আজকের অবস্থা তৈরি করেছে।
মাসুদ সুমন, বাংলাটিভি



