দেশবাংলাঅন্যান্যগ্রাম বাংলাবাংলাদেশ

কিস্তি পরিশোধ না করায় ২ বছরের সন্তান রেখে কারাগারে মা

বাংলা টিভি ডেস্ক: ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ (টিএমএসএস) এনজিও নাটোরের একটি শাখা থেকে নেওয়া ক্ষুদ্র ঋণের ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ না করায় দায়ের হওয়া মামলায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার এক নারীকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (১ মে) সকালে সিরাজগঞ্জের একটি আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতে তাকে তাড়াশ থানা হাজতে রাখা হয়েছিল।

তার সঙ্গে থাকা ২ বছর বয়সী শিশু সন্তানকে শিশুটির নানির জিম্মায় দিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত জান্নাতি খাতুন (২৫) তাড়াশ উপজেলার মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়নের নাদোসৈয়দপুর পাটগাড়ি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী।

মামলার সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার জান্নাতির স্বামী আব্দুর রাজ্জাক বছর খানেক আগেও টিএমএসএস এনজিওতে ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের ফিল্ড সুপারভাইজার পদে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার কাছিকাটা শাখায় চাকরি করতেন। ওই সময় তিনি চাকরির শর্ত মোতাবেক এনজিওতে ২৪ হাজার ৮০০ টাকা জামানত জমা রাখেন।

একই সময়ে একই শাখা থেকে স্ত্রী জান্নাতি খাতুনের নামে ৫০ হাজার টাকা ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণ করেন আব্দুর রাজ্জাক। কিছুদিন পর এনজিও থেকে চাকরি ইস্তফা দেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘টিএমএসএস এনজিও থেকে নেওয়া ৫০ হাজার টাকা ঋণের মধ্যে ২৫ হাজার টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করেছি। আর ওই এনজিওতে চাকরিকালীন সময়ে জামানত রাখা ২৪ হাজার ৮০০ টাকা স্ত্রীর ঋণের সঙ্গে সমন্বয় করতে শাখা ব্যব্স্থাপককে অনুরোধ করেছিলাম।

কিন্তু এনজিও কর্তৃপক্ষ জামানতের টাকা ঋণের সঙ্গে সমন্বয় না করে তারা আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। ওই মামলায় আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করায় পুলিশ স্ত্রী জান্নাতিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। অথচ জামানত রাখা ওই টাকা টিএমএসএস এনজিও আমাকে এখনো ফেরত দেয়নি।’

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘নাটোরের একটি আদালতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে তাড়াশের নিজ বাড়ি থেকে জান্নাতি খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতে তাকে থানা হাজতে রাখা হয়েছিল।

শুক্রবার সকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জান্নাতি খাতুনের দুই বছর বয়সী ছেলে সন্তানকে তাঁর মায়ের (শিশুর নানি) হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।’

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button