বাংলাদেশ

আজ শহীদ নূর হোসেন দিবস

১৯৮৭ সালের আজকের এই উত্তাল দিনে স্বৈর শাসনের বিরুদ্ধে মুক্তিকামী মানুষের আন্দোলন-সংগ্রামের কর্মী নূর হোসেন প্রতিবাদী যুবকের জীবন্ত পোস্টার হয়ে ঢাকার রাজপথে নেমে এসেছিলেন।

তার বুকে পিঠে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি’ পাক লিখে হাজারো মানুষের প্রতিবাদে অংশ নেন যুবক নূর হোসেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী নূর হোসেন মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও বুকে-পিঠে ধারণ করেছিল গণতন্ত্র ও মুক্তির স্লোগান।

১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর ঢাকার জিপিও মোড়ে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হয়েছিল ২৯ বছরের নূর হোসেনকে।প্রতিবাদী নূর হোসেনের বুকের রক্তে সেদিন ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হয়।

সেই থেকে প্রতি বছর ১০ নভেম্বর শহীদ নূর হোসেন দিবস হিসেবে পালন করে আসছে বাঙালি।

দিবসটি উপলক্ষে আজ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছেন পৃথক বাণী ।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সকাল ৮টায় রাজধানীর গুলিস্তানে শহীদ নূর হোসেন স্কয়ারে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন এবং

তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি ) সকাল ৮টায় শহীদ নূর হোসেন স্কয়ারে (জিরো পয়েন্ট) পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

শহীদ নূর হোসেনের মহান আত্মত্যাগের এই দিবসটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা।

শহীদ নূর হোসেনের রক্তদানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন আরো বেগবান হয় এবং

অব্যাহত লড়াই-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরশাসকের পতন ঘটে।

পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার ঝাটিবুনিয়া গ্রামের সেই সূর্য সন্তান নূর হোসেনের পরিবার ও

এলাকাবাসী দাবী স্মৃতি ধরে রাখতে নিজ এলাকায় যেন তৈরি করা হয় স্মৃতিস্থম্ভ ও পাঠাগার।

সংশ্লিষ্ট খবর

Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker