বাংলাদেশ

ঘাতক মঈন ও আশরাফকে দেশে ফিরিয়ে সাজা কার্যকরের দাবি শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের

|| আসাদ রিয়েল ||

স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও, প্রিয়জন হারানোর দু:সহ বেদনা তাড়িয়ে বেড়ায় এ দিনের শহীদ সূর্যসন্তানের স্বজনদের। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়ায়, শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারগুলো এখন কিছুটা ভারমুক্ত। তবে একত্তরে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের অন্যতম হোতা চৌধুরী মঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খানের সাজা কার্যকর করতে না পারায় আক্ষেপের কথা জানান তারা।

১৯৭১ এ দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র যুদ্ধে বাঙালী যখন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে- ঠিক তখনই নতুন ষড়যন্ত্র করে পাক বাহিনী।  পরাজয় নিশ্চিত জেনে, এ দেশীয় দোসর আলবদর, আল-শামস এর সহযোগিতায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যায় মেতে ওঠে পাক বাহিনী।  রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা শহরে তারা হত্যা করে শিক্ষক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ অনেক কৃতি সন্তানকে। পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞের পর, ঢাকার রায়েরবাজার ও মিরপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বুদ্ধিজীবীদের লাশ ফেলে রাখে হত্যাকারীরা।

১৯৭১ সালে বুদ্ধিজীবীদের হত্যার সেই নৃশংসতা ও বর্বরতার চিহ্ন আজো বহন করে চলেছে রায়ের বাজার বধ্যভূমি, একইভাবে সেই দুঃসহ স্মৃতি আজো তাড়া করে বেড়াচ্ছে স্বজন হারা পরিবারগুলো।

শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা: আলীম চৌধুরীর স্ত্রী শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী জানান, স্বামী হারানোর এমন দুঃসহ যন্ত্রণা কখনো ভুলবার নয়।

আরেক শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীর ছেলে আসিফ মুনীর জানান, ১৯৭১ এ তার বয়স ছিল মাত্র ৪ বছর, তাই বাবার সাথে তার তেমন কোনো স্মৃতি মনে নেই।

বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে গুরুত্বপূর্ণ চার অপরাধীর মৃত্যদণ্ড কার্যকর হওয়ায়, বিচারহীনতার গ্লানি অনেকটা দূর হলেও, মৃত্যদণ্ডপ্রাপ্ত চৌধুরী মঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খান এখনো পলাতক থাকায় আক্ষেপের কথা জানান শহীদ পরিবারের সদস্যরা।

পলাতক দুই আসামিকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরে, আরো জোরালো কূটনৈতিক পদক্ষেপের দাবীও জানায় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পরিবারগুলো।

বাংলাটিভি/এআর

সংশ্লিষ্ট খবর

Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker