অন্যান্যবাংলাদেশ

মেয়েদের স্কুল-কলেজে না দিতে আল্লামা শফীর আহ্বান

হেফাজত আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী এক মাহফিলে বলেছেন, আপনাদের মেয়েদেরকে স্কুল-কলেজে দেবেন না। বেশি হলে ক্লাস ফোর-ফাইভ পর্যন্ত পড়াতে পারবেন। আর বেশি যদি পড়ান পত্রপত্রিকায় দেখতেছেন আপনারা। ওই মাইয়া (মেয়ে) ক্লাস এইট, নাইন, টেন, এমএ ও বিএ পর্যন্ত পড়ালে কিছুদিন পর আপনার মেয়ে থাকবে না। তাই আপনারা আমার সঙ্গে ওয়াদা করেন। বেশি পড়ালে আপনার মেয়েকে টানাটানি করে অন্য পুরুষ নিয়ে যাবে। আমার এ ওয়াজটা মনে রাখবেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় হাটহাজারী মাদ্রাসার ১১৮তম বার্ষিক মাহফিল ও দস্তারবন্দি সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শের মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত শান্তি। যারা তার আদর্শ অনুসরণ করবে তারা দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তিতে থাকবে। পরকালে তারাই হবে সফলকাম ব্যক্তি। এ জন্য মাহফিলে উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা হাত তুলে ওয়াদা করেন। এছাড়া তিনি পুরুষদের সুন্নত মোতাবেক দাড়ি রাখা, নামাজ পড়া ও মেয়েদের পর্দা করানোর বিষয়ে উপস্থিত সবার কাছ থেকে হাত উঠিয়ে প্রতিশ্রুতি নেন। পরে দোয়া পরিচালনার মাধ্যমে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।
মাহফিলে আগত ছাত্রদের উদ্দেশে হেফাজত আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন, আপনারা এখন জাতির কর্ণধার। তাদেরকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের পথে পরিচালনা করতে দাওয়াতের কাজ করতে হবে জোরেশোরে। আপনারা অলসতা প্রদর্শন করলে জাতি ধ্বংস হয়ে যাবে। এর জন্য আল্লাহর কাছে আপনাদের জবাবদিহি করতে হবে। মাহফিলে দেশবরেণ্য অজস্র ওলামা একরাম অংশগ্রহণ করেছেন। অনেক বরণীয় ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ নসিহত পেশ করেছেন। তাদের মধ্যে আল্লামা শেখ আহমদ, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, মাওলানা আব্দুল বাসেত খান সিরাজী, মুফতি জসিম উদ্দিন, মাওলানা আজিজুল হক আল মাদানী, মাওলানা খালেদ সাইফল্লাহ আইয়ুবী, ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, মাওলানা ফোরকান আহমদ মাওলানা নুরুল ইসলাম প্রমুখ। এদিকে মাহফিল উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে হাজার হাজার ওলামায়ে কেরাম ও মুসল্লিরা মাদ্রাসায় এসে জমায়েত হন এবং ওলামাযয়ে কেরাম ও বুজুর্গানে দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ নসিহত শ্রবণ করেন। এছাড়া সারা দেশ থেকে আগত অতিথিদের জন্য উন্নত মেহমানদারি, থাকার ব্যবস্থা এবং নসিহত শ্রবণ করার জন্য সুন্দর পরিপাটি ব্যবস্থা করেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে শুরু হয়ে শুক্রবার রাত ৯টায় জালসা শেষ হওয়া। এরপর রাত ১২টা পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার ছাত্রকে দস্তারে ফজিলত প্রদান করা হয়।

সংশ্লিষ্ট খবর

Close