আইন-বিচারবাংলাদেশ

‘রায় বাতিল বা স্থগিত না হলে নির্বাচনের সুযোগ নেই খালেদার’

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান বলছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সর্বোচ্চ আদালত থেকে সম্পূর্ণ খালাস না হলে নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না।

আজ মঙ্গলবার বিচারিক আদালতে দুই বছরের বেশি সাজা হলে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না হাইকোর্ট দেওয়া এমন আদেশের পর  দুদকের আইনজীবী সাংবাদিকদের  একথা জানান।

তিনি বলেন,‘বিচারিক আদালতে কারও বিরুদ্ধে দুই বছরের বেশি সাজা বা দণ্ড হলে সেই দণ্ড বা সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। যতক্ষণ না, আপিল বিভাগ ওই রায় বাতিল বা স্থগিত করে জামিন না দেয়।’

এর আগে দুর্নীতির দায়ে বিচারকি আদালতের দেওয়া দণ্ড ও সাজা (কনভিকশন অ্যান্ড সেন্টেন্সড) স্থগিত চেয়ে করা পাঁচ বিএনপি নেতার আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট।

আদেশের পরে দুদকের এ আইনজীবী বলেন, ‘আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় পাঁচটি দরখাস্তের শুনানি হয়েছে। ওইসব দরখাস্তের মূল বিবেচ্য বিষয় ছিল সেনটেন্সড সাসপেন্ড করার। সেটা গত দুদিন শুনানি হয়েছে। আজকে আদালত আদেশ দিয়ে আবেদনগুলো খারিজ করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘মূলত একটাই কারণ, সেটা হলো সংবিধানের ৬৬(২)-এর (ঘ) ধারায় যে বিধান দেওয়া আছে আদালত বলেছেন যে, এটা সুপ্রিম ল অব দ্য কান্ট্রি। কাজেই ফৌজদারি কার্যবিধিতে কনভিকশন স্টে করার কোনো বিধান নাই। সাসপেন্ডের বিধান থাক আর না থাক, সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন হিসেবে প্রাধান্য পাবে।’

‘সুতরাং অনুচ্ছেদ ৬৬(২)-এর (ঘ) অনুযায়ী উনারা নির্বাচন করার যোগ্য নন এবং সেনটেন্সড সাসপেন্ড চাওয়ার জন্য কোনো এখতিয়ার রাখে না। এই কারণে উনাদের দরখাস্ত খারিজ করে দিয়েছে।’

 ‘এ ছাড়াও আদালত অনেক পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, মূল রায় পেলে হয়তো আমরা জানতে পারবো। দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে সংসদ নির্বাচনে অ্যাটেন্ড করা এবং ক্ষমতায় যাওয়া আদালত এগুলো ডিসকারেজ করেছে। আদালত বলেছেন, দুর্নীতি এমন একটা ব্যাপার যে, এ বিষয়ে আমাদের সবার সজাগ থাকা উচিৎ। কাজেই কনভিকশন মাথায় নিয়ে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া সংবিধানের মূল স্পিরিটের পরিপন্থী।’

তিনি বলেন, ফৌজদারী কার্যবিধির ৪২৬ ধারায় যাই থাকুক না কেন, সংবিধানের সবার ওপরে প্রযোজ্য।

এক প্রশ্নের জবাবে খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত হাইকোর্ট বিভাগ যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এটা নির্বাচন কমিশনের জন্য বাইন্ডিং। আজকে যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে তার বাইরে যাওয়ার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের আইনে নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।’

এই রায়ের আলোকে বেগম খালেদা জিয়ারও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে খুরশিদ আলম খান বলেন, ‘একদম থাকছে না। একথা তো আমি আগেও বলেছি। উনি সম্পূর্ণ খালাস পেলে অথবা সেনটেন্সড বাতিল করে দিলে, তখন উনি পারবেন। আজকের আদেশে এটা আরও পরিষ্কার হল। এই আদেশটা সবার ওপরে বাইন্ডিং। সবার ওপরে প্রতিফলিত হবে এবং নির্বাচন কমিশনও এই আদেশের পর্যবেক্ষণের বাইরে কোনো আদেশ দিতে পারবে না।’

সাবেক প্রতিমন্ত্রী আমান উল্লাহ আমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ওয়াদুদ ভুঁইয়া, আব্দুল ওহাব ও মশিউর রহমান হাইকোর্টে দণ্ড ও সাজা স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন। আজ ওই আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।

বাংলাটিভি/এসএম/এবি

সংশ্লিষ্ট খবর

Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker