অন্যান্যআন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করলেন খাসোগির প্রেমিকা

||বাংলা টিভি অনলাইন||

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছেন নিহত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগির প্রেমিকা হাতিস চেঙ্গিজ। ট্রাম্প নিহত খাসোগির হত্যাকাণ্ডের তদন্তের বিষয়ে তৎপর নন বলে অভিযোগ তুলে এই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

তুরস্কের টেলিভিশনে তিনি বলেছেন, আমেরিকার জনমতকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে তাকে এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন।

তিন সপ্তাহ আগে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে নিহত হন খাসোগি। এরপর এই হত্যাকাণ্ডের সাথে বর্তমান সৌদি রাজপরিবারের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে রিয়াদ এবং এটি ‘দুর্বৃত্ত এজেন্টদের’ কাজ বলে দোষারোপ করে।

এই মাসের শুরুতে নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় এক নিবন্ধে চেঙ্গিজ বলেন, যদি মিস্টার ট্রাম্প ইস্তাম্বুলে সৌদি কনসুলেটের অভ্যন্তরে সেদিন আসলে কি ঘটেছে তা উন্মুক্ত করার প্রচেষ্টায় প্রকৃতই অবদান রাখেন, তাহলে তার আমন্ত্রণ গ্রহণ করার বিষয়ে আমি বিবেচনা করব।

ট্রাম্প বলেছেন সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে তিনি সন্তুষ্ট নন, কিন্তু দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনার বিষয়ে তিনি সেখানেও দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপর জোর দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেছেন, এটা সম্ভব যে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানতেন না।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের একজন কঠোর সমালোচক ছিলেন খাসোগি। গত ২রা অক্টোবর খাসোগি তার বিবাহবিচ্ছেদের দলিলপত্র সংগ্রহ করতে সৌদি কনস্যুলেটে ঢোকার পর আর বের হননি।

সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন সূত্র উদ্ধৃত করে বলা হয়, সৌদি আরব থেকে আসা ১৫ জনের একটি দল তাকে কনস্যুলেটের ভেতরেই হত্যা করে এবং তার লাশ টুকরো টুকরো করে। সৌদি আরব বলছে, কিছু এজেন্ট তাদের ক্ষমতার সীমার বাইরে গিয়ে এ কাজ করেছে।

এই হত্যাকাণ্ডের পর সৌদি আরবের অধিকাংশ পশ্চিমা মিত্ররাই তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছে এবং এর পূর্ণ ব্যাখ্যা দাবি করেছে। কিন্তু প্রতিক্রিয়া জানানোর ব্যাপারে মত-ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে।

যেখানে জার্মানি উপসাগরীয় দেশগুলোতে অস্ত্র রপ্তানি স্থগিত রেখেছে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রো বলেছেন, আমরা অবশ্যই অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করে দেব যদি তা দিয়ে জনগণের আবেগ কাজে লাগিয়ে ফায়দা নেয়া হয়। শুক্রবার তিনি বলেন, খাসোগির সঙ্গে অস্ত্র বিক্রির কোন সম্পর্ক নেই। সবকিছু মিলিয়ে ফেলা উচিত নয়।

এই হত্যার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় পার্লামেন্টে সৌদি আরবে অস্ত্র বিক্রির নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব পাশ হয়েছে বৃহস্পতিবার।

খাসোগির বান্ধবী মিজ চেঙ্গিস শুক্রবার এক টেলিভিশন আবেগময় সাক্ষাতকারে তার প্রেমিকের অন্তর্ধানের ঘটনার দিনের স্মরণ করেন। সেখানে তিনি বলেন, যদি ঘুর্ণাক্ষরেও টের পেতেন যে সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ তাকে হত্যার এমন ষড়যন্ত্র করবে তাহলে তিনি খাসোগিকে কনসুলেটের ভেতরে ঢুকতে দিতেন না।

তিনি বলেন, ‘এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের সাথে যারাই জড়িত সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে একেবারে সর্বনিম্ন পর্যায়ের-সবাইকে যেন বিচার করা করা এবং শাস্তি হয়-এটাই আমার দাবি।’

তিনি জানান কোন সৌদি কর্মকর্তার তরফ থেকে তার সাথে যোগাযোগ করা হয়নি তবে খাসোগির মরদেহ খুঁজে পাওয়া গেলেও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে তার সৌদি আরবে যাওয়া অনিশ্চিত।

সৌদি আরবের পাবলিক প্রসিকিউটর এখন বলছেন, খাসোগজি হত্যাকাণ্ড ছিল পূর্ব পরিকল্পিত এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তায়েপ এরদোয়ান রিয়াদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, এই হত্যার নির্দেশদাতাকে তা স্বীকার করে নিতে এবং মরদেহ কোথায় তা জানাতে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী এই সাংবাদিকের পুত্র সৌদি আরব থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন বৃহস্পতিবার। তার বাবা সৌদি নেতৃত্বের কড়া সমালোচক হওয়ায় পুত্র সৌদি-মার্কিন নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ছিল। তবে সম্প্রতি এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। সূত্র: বিবিসি

বাংলাটিভি/এসএম/এবি

সংশ্লিষ্ট খবর

Close

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker