আন্তর্জাতিকএশিয়া

মুম্বাই হামলাকারীদের তথ্য দিলেই ৫০ লাখ ডলার

২৬ নভেম্বর, ২০০৮ সালের এই দিনে ঘটে যায় ভারতের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা।  যা সংঘটিত হয়েছিল মুম্বাইয়ের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হোটেল তাজ এবং তার আশেপাশের কয়েকটি জায়গা জুড়ে।

মুম্বাই প্রায় সময়ই আলোচনায় থাকে আর সেটা হল ১৯৯৩ সাল থেকে এখানে সংঘটিত হওয়া বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলা। তবে এযাবতকালের সংঘটিত হামলা গুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ছিলো ২৬ নভেম্বরের হামলাটি। যা ২৬/১১ নামেও পরিচিত।

পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ‘লস্কর-ই-তাইবা’ এর ১২ জন সদস্য মিলে মুম্বাইয়ের বিভিন্ন জায়গায় গুলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণ সব মিলিয়ে ১২টি হামলা করে টানা ৪ দিন। ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর বুধবার শুরু হওয়া মুম্বাই হামলার সমাপ্তি ঘটে ২৯ নভেম্বর, শনিবার। দেখতে দেখতে কেটে গেছে দশ বছর।

এতটা সময় পার হয়ে গেলেও কেন ২৬/১১-র মুম্বই হামলার চক্রান্তকারী ও হামলাকীরাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হল না তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে ওয়াশিংটন। পাকিস্তানকে এখনই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জন্য হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। শুধু তাই নয়, হামলাকারীদের ধরে দিতে পারলে বা এদের বিষয়ে কোনও তথ্য দিতে পারলে জন্য ৫০ লাখ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৭৫ হাজার) পুরস্কার মূল্য দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন।

রবিবার (২৫ নভেম্বর) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এক বিবৃতিতে এই হুঁশিয়ারির পাশাপাশি পুরস্কার মূল্যও ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘দশ বছর কেটে গেল, মুম্বাই হামলায় আহত ও নিহতদের পরিবার এখনও বিচারের অপেক্ষায়। যারা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে বা এই হামলার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে এখনও ব্যবস্থা নেওয়া হল না!’

মুম্বাই হামলার মূলহোতা হিসেবে নাম উঠেছে লস্কর জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রধান হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে। এই হামলায় তার জড়িত থাকার প্রামাণ্য তথ্য আমেরিকা, পাকিস্তানসহ আন্তর্জাতিক মহলের হাতে তুলে দিয়েছে ভারত। কিন্তু তার পরেও দেখা গিয়েছে হাফিজ পাকিস্তানে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। শুধু তাই নয়, ভোটেও লড়ছেন!

এই প্রথম নয়, এর আগেও আমেরিকা মুম্বাই হামলার হোতার বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে ব্যবস্থা নিতে বলেছিল। সন্ত্রাসে মদদ দেওয়া বন্ধ না করলে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক দিক থেকেও তাদের চাপে রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ওয়াশিংটন। কিন্তু তার পরেও পাকিস্তান কেন এই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল না, তা নিয়ে যথেষ্ট বিরক্তি প্রকাশ করেছেন মাইক পম্পেও।

পম্পেও বলেন, ‘আমরা সমস্ত দেশকে ডেকেছি। বিশেষ করে পাকিস্তানকে। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষেদের নিয়ম মেনে মুম্বই হামলায় জড়িত জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করার কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে লস্কর-ই-তাইবা ও তার সহযোগী জঙ্গিগোষ্ঠীগুলিকে।’

প্রসঙ্গত:  চার দিনের সেই তাণ্ডবে ৬ মার্কিন নগারিকসহ প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৬৬ জন মানুষ। বহু মানুষ আহত হয়েছিলেন। এদিন আরব সাগর দিয়ে মুম্বাইয়ে ঢুকে পড়েছিল ১০ লস্কর জঙ্গি। মুম্বইয়ের ব্যস্তবহুল জায়গাগুলিতে গুলি, বোমা-গ্রেনেড নিয়ে তাণ্ডব চালায় তারা। তাজ হোটেল জঙ্গিদের দখলে চলে যায়। সেনা-পুলিশ ও এনএসজি কম্যান্ডোদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নয় জঙ্গির মৃত্যু হয়। একমাত্র জীবিত ধরা পড়ে আজমল কসাব। তার ফাঁসি হয়।

বাংলাটিভি/এসএম/এবি

সংশ্লিষ্ট খবর

Close