আন্তর্জাতিকএশিয়াযুক্তরাষ্ট্র

রোহিঙ্গা নিপীড়ন অমার্জনীয়: সুচি’কে পেন্স

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেছেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সহিংসতা ও নিপীড়ন অমার্জনীয়। দেশটির বেসামরিক অংশের নেত্রী অং সান সুচিকে বুধবার (১৪ নভেম্বর) এমনটাই বলেছেন।খবর আল জাজিরার।

বুধবার সিঙ্গাপুরে এশিয়া-প্যাসিফিক সম্মেলনের মাঝে সুচির সঙ্গে ব্যক্তিগত পর্যায়ে বৈঠকে বসেন পেন্স। বৈঠকে সুচিকে তিনি জানান যে, রোহিঙ্গা নির্যাতনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের সাজা দেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের অগ্রগতি নিয়ে চিন্তিত যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি বলেন, সামরিক বাহিনী ও দুর্বৃত্তদের রোহিঙ্গাদের ওপর যে নির্যাতন চালিয়েছে, যার দরুন ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালাতে বাধ্য হয়েছে, এর কোন ক্ষমা নেই।

পেন্সের মন্তব্যে সুচি জানান, বিষয়টি নিয়ে জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা।

এদিকে মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সুচির উদ্দেশ্যে বলেন, নোবেলজয়ী সুচি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর পক্ষ নিয়ে ‘অসমর্থনীয়কে সমর্থন’ জানিয়েছেন।

আল জাজিরা জানিয়েছে, মাহাথির তার স্পষ্টভাষী স্বভাবের জন্য পরিচিত। তা সত্ত্বেও, আসিয়ান নেতাদের মধ্যে জনসম্মুখে এমন নিন্দা প্রকাশের ঘটনা বিরল।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের সামরিক শাসনের আমলে গণতন্ত্রের জন্য লড়ে নোবেল পুরস্কার জেতেন সুচি। কিন্তু রোহিঙ্গাদের প্রতি তার আচরণ ও রোহিঙ্গা নির্যাতন বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হয়েছে। তিনি হারিয়েছেন বহু সম্মাননা। সর্বশেষ চলতি সপ্তাহে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সুচিকে দেওয়া তাদের সর্বোচ্চ সম্মাননা কেড়ে নিয়েছে।

এদিকে পেন্স আরও বলেন, মিয়ানমারে একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক গণমাধ্যম দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। উল্লেখ্য, গত বছর রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে কাজ করায় দুই সাংবাদিককে কারাদণ্ড দিয়েছে মিয়ানমার সরকার। ওই প্রসঙ্গে পেন্স বলেন, ওই দুই সাংবাদিকের গ্রেফতার লাখ আমেরিকানের দুশ্চিন্তা সৃষ্টি করেছে।

এই সপ্তাহে রোহিঙ্গাদের আংশিক প্রত্যাবাসন শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। কিন্তু ইতিমধ্যেই পদক্ষেপটির বিরোধিতা করেছে জাতিসংঘসহ বহু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও দেশ।

জাতিসংঘ বলেছে, এই প্রত্যাবাসন রোহিঙ্গাদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলবে। তাৎক্ষণিকভাবে এই প্রত্যাবাসন বন্ধ করা উচিৎ।

বাংলাটিভি/এসএম/এবি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button