Uncategorized

সুজন বিশ্বাসের খোলা চিঠি; ৭৯ বার চেষ্টা করেও মেলেনি প্রধানমন্ত্রীর দেখা

শ্রী সুজন বিশ্বাস ১৯৯৬সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার জামাল ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন পিতা মোহন বিশ্বাস মাতা সারথী রানী দুইভাই এক বোনের সংসারে সুজন বিশ্বাস সাবার ছোট স্থানীয় কোলাবাজার ইউনাইটেড হাই স্কুল থেকে ২০১২সালে এসএসসি পাশ করেন এবং ২০১৫সালে মোখলেস আনোয়ার কলেজ থেকে থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে মাহাতাব উদ্দিন ডিগ্রী কলেজে ভর্তি হয়ে ভালভাবেই লেখাপড়া চলছিল সুজন বিশ্বাস শিক্ষা জীবনে সাংস্কৃতিক প্রিয় ও ধ্রুবতারা  নাট্য গোষ্টীর সাথে যুক্ত ছিলেন এবং সুজন বিশ্বাস ছোট বেলা থেকেই সৎ প্রতিভাবান ও অন্যায়ের বিরূদ্ধে প্রতিবাদী ছিলেন। স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শেষ করে  অনেক বড় হবেন এবং সমাজের অবহেলিত দুঃখী অসহায় মানুষের জন্য নিজের অর্জনকে কাজে লাগবে ও মানুষের জন্য কিছু একটা করবেন।

আমাদের গ্রামের এক সুদ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চড়া সুদে আজ থেকে পাঁচ বছর আগে বিশ হাজার টাকা নেয় আর এই টাকায় আমার এবং আমার পরিবারের সকল সুখশান্তি চির দিনের কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো প্রতিভাবান সুজন বিশ্বাসের সে আশা আর পূরণ হতে দিলোনা সুদ নামের অভিষ্প্ত ধংসাত্মক ব্যাধি কেড়ে নিল সকল আশা প্রতিভা ও ছিন্নভিন্ন করে দিলো তাদের দুচোখে স্বপ্ন ভরা সুখের সংসার। অবশেষে নিরুপায় হয়ে নিজের জন্মভূমি ছেড়ে ঢাকায় আসতে হয় সুজন বিশ্বাসের কিন্তু জন্মভূমি ছেড়ে ঢাকায় আসা ছিল তার আরেক বিপ্লব ও অন্যায়ের বিরূদ্ধে এবং বুক ভরা আশা ছিল সুদ নামক ধংসাত্মক ব্যাধি হতে নিজের পরিবার ও সমাজের মানুষদেরকে রক্ষা করা।
তবে আশা সে এখনো ছাড়েনি বুকে ধারণ করে আছে কথা হয় শ্রী সুজন বিশ্বাসের সাথে দেখা হয় গত কয়েকদিন আগে ইফতারের পর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়ীর সামনে কিছু লিফলেট হাতে নিয়ে সবাইকে দিচ্ছে কিসের লিফলেট জানতে চাইলে সুজন বিশ্বাস বলেনঃ ভাই এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার একটি খোলা চিঠি সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর কুশল বিনিময় করলেন এবং সুজন বিশ্বাস আমাদের এই প্রতিবেদককে তার এই জীবনের শেষ আশাটুকু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও  সকলের কাছে তুলে ধরার জন্য অনুরোধ করে বলেনঃ আমি শ্রী সুজন বিশ্বাস পিতা মোহন বিশ্বাস আমার ও আমার পরিবারের জীবন খুবই সুন্দরভাবেই চলছিল এর মধ্য আমাদের পরিবারে হঠাৎ একটা সমস্যা দেখা দিলে আমার বাবা জন্য কেড়ে নেয় এবং আমাদের পরিবারকে ছিন্ন বিছিন্ন করে আমাকে করে নিজ জন্মভূমি ছাড়া

এই চড়া সুদের বিশ হাজার টাকার সুদ টানতে টানতে এক সময় আমাদেরও ভিটেমাটি হারিয়ে সর্বশান্ত হতে হয়।

এবং এক সময় আমি দেখলাম শুধু আমিই ভিটেমাটি হারিয়ে সর্বশান্ত নই আমার মতো আমার গ্রামের ও ইউনিয়নে উপজেলা জেলায় তথাকথিত সারা দেশে আজ হাজারও পরিবার এখন এই সুদ নামের ধংসাত্মক ব্যাধিতে সর্বশান্ত হয়ে পথের ফকির হয়ে ভিক্ষের ঝুলি কাঁধে নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে। তাই আমি এই ধংসাত্মক ব্যাধি অর্থাৎ সুদ প্রথা বন্ধের দাবিতে ২০১৭সালের প্রথম দিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্য ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা হতে ৩০০ কিলোমিটার পথ বাই সাইকেল চালিয়ে মাথার উপরে নৌকা ও শরীরে জাতীয় পতাকা ধারণ করে সুদ প্রথার ধংসাত্মক ব্যাধির বিরূদ্ধে প্রচার করতে করতে এবং এর বিরূদ্ধে সবাইকে রুখে দাড়ানোর জন্য এবং এরকম ভুক্তভোগী সমাজে আর যেন কেউ না হয়। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট দেখা করতে আমার এই উদ্দ্যোগ ছিল কিন্তু পরিতাপের বিষয় সে সময় আমি ঢাকায় এসে অনেক চেষ্টা করেও প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে পারিনাই সে থেকে এপর্যন্ত আমি ৭৯বার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করার জন্য বিভিন্ন দ্বারে দ্বারে ধন্না দিয়েও দেখা করতে পারি নাই তবে  এপর্যন্ত আমার চেষ্টা অব্যাহত আছে। আমি বিভিন্ন সময় জাতীয় প্রেসক্লাব জাতীয় জাদুঘর ও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে একবার দেখা করার জন্য অবস্থান কর্মসূচীও পালন করেছি একাধিক বার।

সুদ ব্যবসা সমাজ থেকে বন্ধের জন্যই আমি তখন এই পদক্ষেপ নিয়েছিলাম মানুষ সুদখোরদের রোসানলে পড়ে সুদের টাকা দিতে দিতে এক সময় তার সবকিছু বিলীন হয়ে যায়। আমি দেখলাম এ সমস্যা শুধু আমার নয় বহু লোক রয়েছে যারা এর মতো ধংসাত্মক ব্যাধির ভুক্তভোগী অনেক লোক ঘর ছাড়া ভিটেমাটি হারিয়ে পথের ফকির হয়ে গিয়েছে। তখন  আমি ভাবলাম আমার ভবিষৎত শেষ কিভাবে ভুক্তভোগী মানুষদেরকে এই ধংসাত্মক ব্যাধি হতে রক্ষা করা যায় তাই এটা আমাদের রাষ্ট্র প্রধান অর্থাৎ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অবগত করা প্রয়োজন আর আমি এই বিষয়ের উপর কথা বলতে বলতে দেখি আসলে এটা একটা বাংলাদেশের প্রত্যাকটি গ্রামের সমস্যা সারাদেশে প্রত্যাকটি গ্রামেই আছে এবং এখন এই সমস্যাটা ধংসাত্মক ব্যাধি হিসেবেই দেখা দিয়েছে।
তাই এবার আমার এটাই শেষ চেষ্টা আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট একটা খোলা চিঠি লিখেছি এবং ইতিমধ্যে দুইহাজার চিঠি সকলের কাছে বিলি করেছি আর যে পর্যন্ত আমি মাননীয়

প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে না পারব সে পর্যন্ত আমার এই খোলা চিঠি বিলি অব্যাহত থাকবে বলে জানান সুজন বিশ্বাস।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর সুজন বিশ্বাসের খোলা চিঠি হুবুহু তুলে ধরা হল

সুজন বিশ্বাসের বর্তমান জীবন 

সেই দুই বছর আগে ২০১৭সালের প্রথম দিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্য বাই সাইকেল চালিয়ে সুদ প্রথা বন্ধের দাবিতে ঝিনাইদহ থেকে ৩০০কিলোমিটার পথ পেরিয়ে ঢাকায় আসেন সুজন বিশ্বাস সেই থেকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করার জন্য ৭৯বার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে হাল ছাড়েনি সুজন বিশ্বাস তার আত্নবিশ্বাস প্রধানমন্ত্রী তাকে দেখা করার সুযোগ দেবেন এবং বর্তমানে সুজন বিশ্বাস ঢাকা ও সাভারে মানবেতর জীবন যাপন করছেন নিরুপায় হয়ে জীবন বাঁচানোর জন্য যতটুকু দরকার ঠিক ততটুকুই রিক্সা চালিয়ে তা উপার্জন করছেন এবং বিভিন্ন সময় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লিখে বিভিন্ন জায়গায় বিলি করছেন ও বেশকিছু কবিতা এপর্যন্ত প্রকাশ করেছেন এবং গান দেশপ্রেম লিখনী দুটি নাটক তার মধ্য উল্ল্যেখ রাষ্ট্রগ্রাস নাটক বাংলার কবিতা সাবধান বাঙ্গালী সাবধান ইত্যাদি এবং এসব করছেনও তিনি রিক্সা চালানো উপার্জন দিয়ে।  তার লিখনীর মধ্য সুদের মতো ধংসাত্মক ব্যাধি পরিহার দেশপ্রেম মানুষের ও দেশের কল্যাণকর বিষয় প্রকাশ পায় যা দেশ ও দেশের মানুষের কল্যান বয়ে আনবে বলে সচেতন মহলের ধারণা সুজন বিশ্বাস বলেনঃ বর্তমান আমার দিনকাটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করার শেষ চেষ্টা দিয়ে এবং আমার আত্নবিশ্বাস দয়াময় মমতাময়ী বাংলার মা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে  তার মমতাময়ী মুখখনা দেখার সৌভাগ্য ও তার চরণ ধূলি নেওয়ার সুযোগ করে দিবেন বলে আশা করেন।

বাংলাটিভি/পিয়াস

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close