অন্যান্যজনদুর্ভোগবাংলাদেশস্লাইডার

বাড়ছে হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার

মোটরসাইকেল বা গাড়িতে যত্রতত্র হর্ন লাগিয়ে শব্দদূষণের অভিযোগ অহরহ শোনা যায়। তবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার বন্ধের জন্য নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে। মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ অনুযায়ী কোনো গাড়িতে হাইড্রোলিক হর্ন সংযোজিত পাওয়া গেলে জরিমানার বিধান আছে। তবে জরিমানার অঙ্ক মাত্র ১০০ টাকা। দূরের রাস্তায় উচ্চ শব্দের হর্ন ব্যবহার করা হয় দূর থেকেই পথচারী বা অন্যান্য গাড়ি যেনো সতর্ক হতে পারে। কিন্তু শহরের মধ্যে এই শব্দগুলো শ্রবণের জন্য অতি কষ্টকর।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে মাত্রাতিরিক্ত শব্দের কারণে ইতিমধ্যে দেশের প্রায় ১২ শতাংশ মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস পেয়েছে। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্​রোগসহ ফুসফুসজনিত জটিলতা, মস্তিষ্কবিকৃতি, স্মরণশক্তি হ্রাস, মানসিক চাপসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা।

ডাক্তারি তথ্যমতে, একজন সুস্থ মানুষ ২০ থেকে ২০,০০০ স্পন্দনের শব্দ শুনতে পারে। মানুষের শব্দ গ্রহণের স্বাভাবিক মাত্রা ৪০-৫০ ডিবি পর্যন্ত। এমন অনেক হর্ন রয়েছে, যে হর্নগুলো ৬০ ডিবি থেকে শুরু করে ১২০ ডিবি পর্যন্ত শব্দ উৎপন্ন করে। সাধারণত ৬০ ডিবি শব্দ মানুষকে সাময়িকভাবে এবং ১০০ ডিবি শব্দ সম্পূর্ণ বধিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই এ ধরনের হর্ন শব্দদূষণ ও স্বাস্থ্যহানির অন্যতম কারণ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট মো. রাজীব হোসেন মিয়া বলেন, হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের ওপর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ ছাড়া বিকট শব্দ অথবা জনসাধারণের অসুবিধা সৃষ্টিকারী কোনো যন্ত্র যদি মোটরসাইকেল বা গাড়িতে যুক্ত করা হয়, সে ক্ষেত্রে আমরা আদেশ অমান্যের (ধারা ১৪০) অপরাধে মামলা করতে পারি।

তিনি আরও বলেন, মোটরযান অধ্যাদেশ অনুযায়ী বিআরটিএর অনুমতি ছাড়া গাড়ির উল্লিখিত কিছু অংশ পরিবর্তন করা যাবে না। হর্নকে এই খাতে ফেলেও জরিমানা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মাঝেমধ্যে আমরা হর্ন বাজিয়েও কী হর্ন লাগানো রয়েছে, তা পরীক্ষা করে দেখি। ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের গত ছয় মাসে ট্রাফিক পুলিশ ১৮ হাজার ৫২২টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করেছে। এ সময় ১০ লাখ ২২ হাজার ৩৩৮টি মামলা হয়েছে।

বিকট শব্দে হর্ন বাজালে কী ক্ষতি হতে পারে? এ প্রসঙ্গে চোখ, কান ও গলাবিশেষজ্ঞ মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, বিকট শব্দ সুস্থ মানুষের জন্য তো বটেই, শিশু, শিক্ষার্থী এবং রোগীদের জন্য ভয়ানক। এর কারণে মানুষ বধিরতার মতো রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এ ছাড়া হঠাৎ হর্ন বাজানোর ফলে মানুষের মনে ভীতির সৃষ্টি হয়। এই ভীতি মানসিক রোগের কারণ হতে পারে। এছাড়া সীমার বাইরের শব্দদূষণ শ্রবণক্ষমতা নষ্ট করে। এর ফলে মানসিক ভারসাম্যও বিনষ্ট হতে পারে। শব্দদূষণ খিটখিটে মেজাজ সৃষ্টিরও কারণ। এর দ্বারা ফুসফুস আক্রান্ত হয়, শিশুদের বুদ্ধিমত্তা বাধাগ্রস্ত হয় এবং তাদের লেখাপড়ায় উদাসীন করে তোলে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, স্কুটার বা মোটরসাইকেলের হর্ন ৮৭ থেকে ৯২ ডিবি এবং ট্রাক-বাস ৯২ থেকে ৯৪ ডিবি শব্দ সৃষ্টি করে। শব্দের বাঞ্ছনীয় মাত্রা রয়েছে, যা ব্যক্তিগত কক্ষে ২৫ ডিবি, ড্রয়িং বা ডাইনিং কক্ষে ৪০ ডিবি, অফিসে ৩৫-৪০ ডিবি, শ্রেণিকক্ষে ৩০-৪০ ডিবি, গ্রন্থাগারে ৩৫-৪০ ডিবি, হাসপাতালে ২০-৩৫ ডিবি, রেস্তোরাঁয় ৪০-৬০ ডিবি এবং রাত্রিকালে শহর এলাকায় ৪৫ ডিবি। শব্দ এই সীমা অতিক্রম করলে শব্দদূষণ বলে চিহ্নিত হবে।

হর্ন আমদানির কোনো নীতিমালা না থাকায় অটোমোবাইল বাজারে বিভিন্ন দেশের তৈরি বিকট শব্দের হর্নগুলো হরহামেশায় বিক্রি হচ্ছে।  মোটরসাইকেলের জন্য যে হর্ন বা সেডান গাড়ির জন্য সাধারণ যে হর্ন ব্যবহার করা হয়, তা গাড়িতে ব্যবহার করাই উত্তম। এতে শব্দদূষণ কম হয় এবং চালকও সহজে সতর্ক হতে পারেন। ।এছাড়া গাড়ির চালকের পাশাপাশি গাড়ির মালিকদেরও সতর্ক হওয়া উচিত। তথ্যসূত্র- প্রথম আলো

বাংলাটিভি/ সৌরভ নূর

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close