দেশবাংলা

তিস্তা পাড়ে বর্ষায় বানভাসি, শুকনো মৌসুমে ধুধু বালু

ইলিয়াস বসুনিয়া, লালমনিরহাট : লালমনিরহাটে তিস্তা নদীতে শুকনো মৌসুমে থাকেনা পানি, চারিদিকে শুধু ধুধু বালু। পানির অভাবে হয় না চাষাবাদ। আবার বর্ষায় তিস্তার দু’কুলে উপচে পড়া পানিতে সৃষ্টি হয় বন্যা। তিস্তা পাড়ের মানুষ হয়ে ওঠেন বানভাসি। নিমিষে ভিটে-বাড়ী, আবাদি জমি, ফলের বাগান সবকিছু হারিয়ে হয়ে পড়ে নি:স্ব। ভিন্ন সময় ভিন্নরুপে নানা প্রতিকূলতার মাঝেও তিস্তাতে সুখ খোঁজেন স্থানীয়রা।

ভারতের সিকিম, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ও লালমনিরহাটের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত একটি অন্যতম নদী তিস্তা। সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে তিস্তা বাংলাদেশে ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। বছরে ৫-৬ মাস একেবারে শুকিয়ে থাকে প্রমত্তা তিস্তা। এসময় হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানীতে দেশের বৃহত্তর কৃষি সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজে পানি না থাকায়, অলস হয়ে পড়ে তিস্তার উপর নির্ভশীল মানুষ।

আবার বর্ষায় সেই মরুময় তিস্তায় পানি বেড়ে গিয়ে চারদিকে দেখা যায় অথৈ পানি। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিস্তার দেখা মেলে ভরা যৌবনে। অক্টোবর থেকে জুন পর্যন্ত তিস্তা হারায় তার যৌবন। একেক মৌসুমে একেক রুপে কঠিন জীবন যাপন করেন, তিস্তা পাড়ের লাখো মানুষ।

তিস্তার ২ পাড়ে বাঁধ নির্মাণ এবং ড্রেজিংসহসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে একটি বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান, পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার।

তিস্তা পাড়ের মানুষ সবকিছু হারিয়েও তিস্তার বুকেই বাঁচাতে চায়। বহুরুপে অপরুপ এই তিস্তাকে বাচাঁতে জরুরী ভিত্তিতে নদী খনন ও তীর সংরক্ষনের দাবী তিস্তা পাড়ের লাখো মানুষের।

বাংলাটিভি/ এসনূর

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close