দেশবাংলা

বিভাগের সর্বাধিক পূজা অনুষ্ঠিত হবে আগৈলঝাড়ায়

১শ ৫১টি পূজা মন্ডপে পূজার আয়োজন

নাজমুল রিপন, আগৈলঝাড়া : সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দেবী দুর্গা পুজার বাকী প্রায় এক মাস। আর এরই মধ্যে শরতের শুরুতেই মর্তে বাজতে শুরু করেছে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা। অন্যান্য বছরের মতো এবছরও বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে বেশী পূজা মন্ডপ তৈরী হচ্ছে আগৈলঝাড়া উপজেলায়। জেলায় ৫৩২টি মন্ডপের মধ্যে আগৈলঝাড়া উপজেলায়ই ১৫১টি মন্ডপে পুজা অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রতিমা তৈরীতে এখন মহাব্যস্ত সময় পার করছেন আগৈলঝাড়ার পাল পাড়ার মৃৎশিল্পীরা।

প্রতিমা নির্মান শিল্পী উপজেলার উত্তর শিহিপাশা গ্রামের একমাত্র পাল পাড়ার প্রতীমা নির্মাণ শিল্পী মৃত মহাদেব পালের ছেলে গৌরাঙ্গ পাল, একই বাড়ির শিবানন্দ পালের ছেলে সুদেব পাল ও একই বাড়ির কৃষ্ণ পালের সাথে।

গৌরাঙ্গ পাল জানান, উপজেলায় একমাত্র পাল পাড়া হিসেবে তাদের রয়েছে সু-প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যর খ্যাতি। বাপ-দাদার আমল থেকেই তারা বিভিন্ন সময়ে প্রতীমা নির্মাণসহ বিভিন্ন মেলায় খেলনা সামগ্রী ও তৈজসপত্র নির্মান করে আগুনে পুড়িয়েহ হরেক রকমের রং করে তা বিক্রি করে আসছেন। তাদের গ্রামে নির্মান শিল্পী হিসেবে ১৭টি পরিবার রয়েছে।

এই ১৭টি পরিবারের মধ্যে ৪০জন পুরুষ শিল্পী ও অন্তত ৩০জন নারী শিল্পী রয়েছেন। প্রত্যেক পরিবারের নারীদের শিল্প কাজে রয়েছে নিপুন দক্ষতা। তাই পুরুষ শিল্পীদের পাশাপাশি পাল পাড়ার প্রত্যেক নারীরাই মাটির তৈরী শিল্প কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিয়োজিত রয়েছেন। বিশেষ করে প্রতীমার মুখ মন্ডল তৈরীর নিপুন কাজে নারী শিল্পীরা খুবই দক্ষ।

গৌরাঙ্গ পাল আরও জানান, এলাকার পরিচিত লোকজনের কারণে এসকল প্রতিমা নির্মানে পারিশ্রমিক কম নিয়ে অন্তত ৫০ হাজার টাকা থেকে ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নেবেন তারা।

শিল্পীরা জানান, শুভ দিন হিসেবে শ্রাবন মাসে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসবের দিন থেকেই তারা প্রতীমা নির্মাণের কাজে হাত লাগান। এর পর মূল প্রতিমায় মাটির প্রলেপের কাজ করেন মনসা পূজার পর থেকে। পাল পাড়ার শিল্পীরা ইতোমধ্যেই দেবীর প্রতিমা নির্মাণের কাজ শেষ করেছেন। এখন চলছে সর্বশেষ মাটির প্রলেপের কাজ। যাকে বলা হয় দো’মাটি করা। এর পর রং তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলবেন প্রতিমার দৃষ্টি নন্দিত রূপ।

থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেন বলেন, শারদীয় দুর্গা পুজায় যে কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ১৫১টি মন্ডপ এলাকায় চৌকিদার-দফাদার, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মন্দির কমিটি ও স্থানীয় সেচ্ছাসেবকদের নিয়ে ‘সম্প্রিতি’ কমিটি গঠন করা হবে। পুজার সময় থানা পুলিশের পাশাপাশি প্রতিটি মন্ডপে থাকবে আনসার, গ্রাম পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী সদস্য। মন্ডপের নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরীতে থানা পুলিশের তৎপরতার পাশাপাশি র‌্যাব ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে অব্যাহত।

উপজেলা পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও আওয়ামী লীগ সুনীল কুমার বাড়ৈ জানান, গত বছর উপজেলায় ১৪৭টি মন্ডপে পুজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবছর ৪টি মন্ডপ বেড়ে সংখ্যা দাড়িয়েছে ১৫১টিতে।

পুজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বাকাল ইউপি চেয়ারম্যান বিপুল দাস জানান, বিভিন্ন এলকা থেকে এখন পর্যন্ত পুজা মন্ডপ নির্মানের কথা তাদের জানিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে আরও দু’একটি পুজা মন্ডপ বাড়তে কমতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস জানান, এখন পর্যন্ত উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ১শ ৫১টি পূজা মন্ডপের তালিকা পাওয়া গেছে। নির্বিঘ্নে পুজা করতে প্রশাসন পুজারীদের সব রকম সাহায্য সহযোগীতা করবেন বলেও জানান তিনি।

বাংলাটিভি/ এসনূর

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close