কক্সবাজারে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে ৪০ হাজার মানুষ

গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে পাহাড়ধসে ঘরবাড়ি বিলীন হওয়ার পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনায় হতাহত হয়েছে মানুষ। এরপরও বিভিন্ন পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা অন্তত ৪০ হাজার। গত ১০ বছরে একাধিক পাহাড়ধসের ঘটনায় ছয় সেনাসদস্যসহ অন্তত ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল বুধবারও পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় দুই শিশুর মৃত্যু ও বিলীন হয় তিনটি ঘর। এই ঘরেই মাটিচাপায় মৃত্যু হয় দুই শিশুর।
পরিবেশ সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার পৌরসভার অন্তত ১২টি পাহাড়ে বসবাস করছে আড়াই লাখের বেশি মানুষ। এর মধ্যে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে আছে অন্তত ৪০ হাজার। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা বলেন, গত জুলাই মাসের ভারী বর্ষণে শহরের ১০-১২টি পাহাড়ের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরে ভূমিধস হয়েছিল। পাহাড়ধসে তখন নিহত হয় দুজন। গত তিন দিনের ভারী বর্ষণেও একই পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। কিন্তু কেউ পাহাড় ছাড়তে রাজি হচ্ছে না।
জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা কার্যালয় সূত্র জানায়, পৌরসভার অভ্যন্তরে ১২টির বেশি পাহাড়ে ভূমিধসের ঝুঁকিতে আছে অন্তত ৪০ হাজার মানুষ। এসব পাহাড়ে ১২ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি তৈরি করে বসতি করছে দুই লাখের বেশি মানুষ। এর মধ্যে অন্তত ৮০ হাজার মিয়ানমারের অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা।
জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ভারী বর্ষণে ভূমিধসে প্রাণহানি ঘটতে পারে, তাই লোকজনকে পাহাড় ছাড়তে অনুরোধ জানিয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। স্বেচ্ছায় তারা সরে না এলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিপদ জেনেও নিরাপদ স্থানে যেতে নারাজ কেনো জানতে চাইলে বৈদ্যঘোনা পাহাড়ের ঢালুতে তৈরি ঘরের মালিক সাধন দত্ত বলেন, ‘অনেক কষ্টে ঘরটি তৈরি করেছি। ঘরটি ফেলে অন্যত্র চলে গেলে এটি অন্যরা দখল করে নেবে। তখন মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে না।’–খবর, প্রথম আলো



