অন্যান্যবাংলাদেশ

আজ শাহ আবদুল করিমের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী

আসাদ রিয়েল, ঢাকা : আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম, গাড়ি চলে না চলে না, কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু কিংবা বসন্ত বাতাসে সই গো- এমন অসংখ্য কালজয়ী গানের স্রষ্টা বাউল শাহ আবদুল করিম। ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনের সুখ-দুঃখ, প্রেম-ভালোবাসার পাশাপাশি- তার গানে উঠে আসে অন্যায় অবিচার কুসংস্কার আর সাম্প্রদায়িকতার প্রসঙ্গও।

২০০৯ সালের এই দিনে কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে পরপারে চলে যান এই বাউল কিংবদন্তী। আজ এই কিংবদন্তীর ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী।

১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ধল আশ্রম গ্রামে এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেন শাহ আবদুল করিম। বাল্যকালে শিক্ষালাভের কোনো সুযোগ পাননি তিনি। ১২ বছর বয়সে নিজ গ্রামের এক নৈশবিদ্যালয়ে কিছুদিন পড়াশোনা করেন। সেখানেই প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন।

পরে নিজ চেষ্টায় স্বশিক্ষিত হয়ে ওঠেন আবদুল করিম। দারিদ্র ও জীবন সংগ্রামের মাঝে বড় হওয়া শাহ আবদুল করিমের সঙ্গীত সাধনার শুরু ছোটবেলা থেকেই। জীবনের বাস্তবতাই যেন তাঁকে উদ্বুদ্ধ করে গানে।

জীবনের প্রথম পর্বে তাঁর সঙ্গীতের দীক্ষা ঘটেছিল বাংলা ভাবসাধক ও বাউল পরিমন্ডলে। গেয়েছেন বাউল, ভক্তিমূলক, জারি, সারি, রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পালাগান। কিন্তু পরিণত বয়সে তিনি গণসঙ্গীত রচনা ও পরিবেশনে খ্যাতি অর্জন করেন। একদিকে তিনি ছিলেন গণচেতনার সঙ্গীত রচয়িতা, সুরকার ও গায়ক।

অন্যদিকে ছিলেন বাউল-আঙ্গিকের সঙ্গীতশিল্পী। ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনের সুখ-দুঃখ, প্রেম-ভালোবাসার পাশাপাশি, গানের মাধ্যমে বলেছেন অন্যায়, অবিচার, কুসংস্কার আর সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধেও।

জীবদ্দশায় তিনি রচনা করেন ৭ টি গানের বই। তাঁর প্রায় সমুদয় গ্রন্থেই তত্ত্বগানের পাশাপাশি, গণচেতনার গান মুদ্রিত হয়েছে। তা এতটা জনপ্রিয়তা অর্জন করে যে, তিনি কিংবদন্তীতে পরিণত হন।

সহজ-সরল জীবনযাপন করা ও পদ-পদবীর প্রতি নির্লোভ এই মানুষটি কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে অর্জন করেন একুশে পদক, শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননাসহ দেশ-বিদেশের অসংখ্য সম্মাননা।

২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে পরপারে চলে যান এই বাউল সম্রাট।

বাংলাটিভি/ এসনূর

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close