
সৌরভ নূর : নির্যাতনের পর আবরারকে ফেলে রাখার দৃশ্যের বর্ণনা দিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী মহিউদ্দিন বলেন, রাতে খাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়েছি তখন আড়াইটার মতো বাজে। দেখি নিচে আবরার কাতরাচ্ছে। আমি এগিয়ে গিয়ে কি হয়েছে জিজ্ঞেস করলে পাশ থেকে ছাত্রলীগ নেতা জিয়ন বলে, ‘ও (আবরার) নাটক করতাছে।’
মহিউদ্দিন আরো বলেন, আমি জীবিত দেইখাও ওরে বাঁচাইতে পারি নাই। মাফ করে দিস, ভাই। আমারে সবাই মাফ কইরা দিস। নিষ্ঠুরতার এই বর্ণনা দিতে দিতে গিয়ে মহিউদ্দিন বার বার কেঁদে ফেলেন। বলেন, আমি তখনো বুঝতে পারিনি আবরার কতোটা অসহায় পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। ‘আমি ওরে বাঁচাইতে পারিনি।’
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী আরাফাত সেই থমথমে সময়ের বর্ণনা দিয়ে জানান, আড়াইটার বেশি বাজে খাবো বলে বের হয়েছি দেখি তোশকের মধ্যে একজন শুয়ে আছে। তখনো মাথায় আসেনি কি হতে চলেছে। ভাবলাম, হয়তো কেউ মাথা ঘুরে পড়ে গেছে। কিন্তু যখন কাছে গিয়ে আবরারের হাত ধরলাম, পুরো হাত, পা ঠান্ডা। শার্ট-প্যান্ট ভেজা। তোশক ভেজা। মুখে ফেনা লেগে আছে।
শেষ বারের মতো বাঁচানোর চেষ্টায় বুকে চাপ দিই। কিন্তু কোনো সাড়া শব্দ নেই, ততক্ষণে দেহ নিথর হয়ে গিয়েছে। এরপর আশপাশের সবাইকে ডাকি, বলি ডাক্তার ডাকতে। এরপর ডাক্তার আসলে দেখে বলেন, আরো ১৫ মিনিট আগেই আবরার মারা গেছে। তখন আমরা আবরারের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায়। এর আগে ভাবতেও পারিনি ‘এভাবে কাউকে মারা হতে পারে।’
আফসোস নিয়ে আরাফাত আরো বলেন, ‘৩-৪ মিনিট আগে যদি খাবার আনতে যাইতাম, তাহলে পোলাডারে হয়তো বাঁচাইতে পারতাম। এই তিন মিনিটের আফসোসে তিন দিন আমি ঘুমাইতে পারি নাই।’
বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মীর নির্যাতনে নিহত আবরারের শেষ সময়ের শেষ প্রত্যক্ষদর্শী এই দুজন। আরাফাত ও মহিউদ্দিন আবরারের মতোই বুয়েটের শেরেবাংলা হলেই থাকেন। বুধবার বেলা দেড়টার দিকে এই দুই ছাত্র বুয়েট ক্যাম্পাসে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে নিষ্ঠুর ও নির্মম ঘটনার বর্ণনা দেন। এসময় ছাত্র-ছাত্রীদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আগামী ৭ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) সকল ধরণের ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবি জানিয়েছে আবরারের সহপাঠিরা। ১৫ই অক্টোবর পর্যন্ত বেধে দেয়া সময়ের মধ্যেই বাকি দাবিগুলো পূরণ না হলে ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।



