২শ ২২ বর্গফুটের কুড়ে ঘরে বন্দী চা-শ্রমিকদের জীবন

চা গাছ ছেঁটে যেভাবে ২৬ ইঞ্চির বেশি বাড়তে দেয়া হয় না, ঠিক সেভাবেই, হবিগঞ্জের চা শ্রমিকদের জীবনও যেন চা গাছের মতো লেবার লাইনের ২শ ২২ বর্গফুটের কুড়ে ঘরে বন্দী। চা বাগান, শ্রমিকদের কাছে গোটা পৃথিবী।
দীর্ঘ আন্দোলনের পর চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১৭ টাকা বাড়িয়ে ১০২ টাকা করা হলেও, এ মজুরিতে চলছে না শ্রমিকদের জীবন যাপন। এদিকে বাগান কর্তৃপক্ষরা বলছে, বর্তমানে চা শ্রমিকদের সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা দেয়া হচ্ছে।
দুটি পাতা, ১টি কুঁড়ির বিভাগ সিলেট। এর মধ্যে হবিগঞ্জে রয়েছে ২৪টি চা বাগান। আর এসব বাগানের শ্রমিকরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। শ্রমিকদের ভাগ্য ও জীবনমান বরাবরই সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির কাতারে।
পরিবারগুলোতে শিক্ষার আলো পৌঁছেনি বললেই চলে। থাকেন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে, চিকিৎসারও নেই সু-ব্যবস্থা। টানা ৮ ঘণ্টা কাজ করেও সকালে চা-পাতা ভাজা, দুপুরে শুকনা রুটি, আর রাতে মরিচ দিয়ে ভাত খেয়ে জীবন কাটাচ্ছেন হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন চা বাগানের শ্রমিকরা।
প্রচন্ড পরিশ্রমে দিন শেষে একজন শ্রমিক ২৩ কেজি চা-পাতা সংগ্রহের পর, মজুরি পাচ্ছেন মাত্র ১০২ টাকা। এর আগে মজুরি ছিলো ৮৫ টাকা।শ্রমিকদের দীর্ঘ দাবিতে মাত্র ১৭ টাকা বাড়িয়ে ১০২ টাকা করা হয়। এতে সন্তুষ্ট নয় চা শ্রমিকরা। বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে বাড়তি ১৭ টাকা তাদের কোনো কাজে আসছে না।
চা শিল্প বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ একটি শিল্প। জাতীয় অর্থনীতিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তাই চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরী বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
মতিউর রহমান, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি



