কচুরিপানা দিয়ে পাট জাতীয় পন্য তৈরি

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের নারীরা কচুরিপানা দিয়ে পাট জাতীয় পন্য তৈরি করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। বাড়িতে বসে ডোবা ও পুকুরের কচুরিপানা দিয়ে ঝুড়ি, পাঁপস, ওয়ালম্যাটসহ প্রায় হাজার রকমের বাহারি হস্তশিল্প তৈরি করে দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও বিক্রি করছে।
১৯৯৩ সালে কচুরিপানাকে ঘিরে বরিশালের আগৈলঝাড়ার কালুরপাড় গ্রামে গড়ে ওঠে প্রকৃতি বিবর্তন হ্যান্ডমেইড পেপার প্রজেক্ট। এ প্রজেক্টের মাধ্যমে অসহায় নারীরা ডোবা ও মজাপুকুর থেকে কচুরিপানা সংগ্রহ করেন।
এরসঙ্গে পাট, সিল্ক দিয়ে মাঞ্জা তৈরি করে তাতে রং দিয়ে, রোদে শুকানোর পর তৈরি করা হয় কাগজ। আর কচুরিপানার কাগজের সাথে সন, সুতা, কেয়া পাতা, তালপাতা, হোগলা পাতা ও পাট দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার ধরনের হস্তশিল্প।
নারীরা সংসারের কাজের পাশাপাশি দলবদ্ধভাবে সৌখিন জিনিস তৈরি করে আয় করছেন ৬ থেকে ১৫হাজার টাকা পর্যন্ত। তা দিয়ে চলছে সংসারের চাকাসহ সন্তানদের লেখাপড়া ও আনুসঙ্গিক খরচ। বিদেশে এর চাহিদা বেশী থাকায় দিনদিন বাড়ছে এর প্রসার।
অসহায় দুঃস্থ মহিলাদের স্বাবলম্বী করে তোলার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই এ প্রজেক্টের মুল লক্ষ বলে জানান, প্রকৃতি বিবর্তন হ্যান্ডমেইড এর সহকারী ব্যবস্থাপক মোঃ মিজানুর রহমান।
নারীরা তাদের দক্ষতায় হস্তশিল্পে আরো অগ্রসর হবে এমন প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।



