১১ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল, হিলি, কুষ্টিয়া ও মুন্সীগঞ্জ হানাদার মুক্ত দিবস

১১ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল, হিলি, কুষ্টিয়া ও মুন্সীগঞ্জ হানাদার মুক্ত দিবস। এই দিনে বাংলার দামাল সন্তানরা পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর কবল থেকে এসব অঞ্চলকে মুক্ত করে। নানা আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধাসহ দেশবাসী আজো সেইসব শহীদদের শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করছে।
১৯৭১সালে টাঙ্গাইলে গঠন করা হয় স্বাধীনবাংলা গণমুক্তি পরিষদ।শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ। ২৭ মার্চ সার্কিট হাউজ আক্রমনে ২জন পাকসেনা নিহত এবং ১৫০ জন আত্মসমর্পন করে। প্রথম আক্রমনে সাফল্য পাওয়ায় মুক্তিযোদ্ধারা গ্রামে গ্রামে সু-সংগঠিত হতে থাকে। শুরু হয় বিভিন্নস্থানে যুদ্ধ। চারদিক থেকে আক্রমনে দিশেহারা হয়ে পড়ে পাকবাহিনী। পিছু হটতে বাধ্য হয় তারা।
এদিকে, স্বাধীনতার ৪৮বছর পর টাঙ্গাইল জেলা সদর পানির ট্যাংক বধ্যভূমি ও গণকবর সংরক্ষণের কাজ শুরু হওয়ায় খুশি মুক্তিযোদ্ধারা।
১৯৭১ সালে ৬ ডিসেম্বর ভারতীয় মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা হিলির রেললাইন অতিক্রম করে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের হিলিতে প্রবেশ করে। এসময় মাটির নিচে বাঙ্কারে লুকিয়ে থাকা হাজার খানেক পাকসেনার প্রতিরোধের মুখে পড়ে তারা।
এসময় সম্মুখ যুদ্ধে ৩৪৫ জন ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সদস্য ও দেড়শ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। পরে ৭ নম্বর সেক্টরের আওতায় ভারত সীমান্তবর্তী হিলি শত্রু মুক্ত হয়।
কুষ্টিয়ায় ১৯৭১ সালের ১৬ এপ্রিল থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২টি যুদ্ধ সংগঠিত হয়। মুক্তিবাহিনী, ভারতীয় মিত্রবাহিনী কুষ্টিয়া শহর দখলে নিতে কুষ্টিয়া শহরতলী চৌড়হাসে পৌছুঁলে পাকিস্তান বাহিনীর এ্যাম্বুশে পড়ে।
পরে ত্রিমুখী যুদ্ধে পাকবাহিনী পালিয়ে যায়। ১১ ডিসেম্বর শত্রুমুক্ত হয় কুষ্টিয়া। ১৮ সেপ্টেম্বর শিশুসহ হত্যা করা হয় ১৬ জনকে। এখনো সেই স্মৃতি বয়ে বেড়ালেও সরকারি সুবিধা পায়নি এসব পরিবারের কেউ।
অন্যদিকে, ৭১ এর পহেলা মে,পাকপাহিনী ধলেশ্বরী নদী পার হয়ে শহর ও আব্দুল্লাহপুর লঞ্চঘাট দিয়ে ঢুকে পরে মুন্সীগঞ্জে। পরে সরকারী হরগঙ্গা কলেজে তৈরি করে তাদের প্রধান ক্যাম্প। এ ক্যাম্পে থেকে জেলার বিভিন্নস্থানে অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, হত্যাসহ ধ্বংসযজ্ঞ চালায় তারা।
পরে মুক্তিযোদ্ধাদের কঠিন প্রতিরোধের মুখে ১০ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জ থেকে পাকবাহিনী পালিয়ে যায়। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও জেলায় জানা অজানা বেশ কয়েকটি বধ্যভুমি রয়েছে অরক্ষিত।
ডেস্ক রিপোর্ট, বাংলা টিভি



