বাগদাদে ইরান দূতাবাসে মার্কিন হেলিকপ্টারের টহল

ইরাকের জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী হাশদ আশ-শাবির ঘাঁটিতে ভয়াবহ মার্কিন বিমান হামলার জের ধরে বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসের সামনে যখন প্রচণ্ড বিক্ষোভ হচ্ছে তখন মার্কিন হেলিকপ্টার বাগদাদের ইরান দূতাবাসের আকাশে হেলিকপ্টার টহল দেয়া শুরু করে।
এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছেতো বটেই, বরং এই ঘটনা দেশটিতে চলমান উত্তেজনাকে আরো তীব্র করতে পারে বলে মনে করছে মধ্যপ্রচ্য ভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলো। আরও জানাযায়, হেলিকপ্টারটি গত তিন দিন ধরে প্রতিদিন ২০ ঘন্টা ধরে বাগদাদের আকাশে টহল দিয়েছে।
এর আগে শুক্রবার ভোর রাতে এক বিমান হামলায় বাগদাদে ইরানের আল কুদস বাহিনীর প্রধান জেনারেল কাশেম সোলায়মানি ও ইরাকের স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী আশ-শাবির সেকেণ্ড-ইন-কমাণ্ড আবু মাহদি আল-মুহানদিস সহ ৭ জন নিহত হয়।
পেন্টাগন এক বিবৃতিতে বলেছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সরাসরি আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এ হামলা করেছে। এ হামলার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার টুইটে কোনো বক্তব্য ছাড়াই একটি যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার ছবি পোস্ট করেন।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী জেনারেল সোলায়মানিকে হত্যার চরম প্রতিশোধ নেয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। টুইটারে তিনি এসম্পর্কে লেখেন, শাহাদাত প্রাপ্তি সোলায়মানির নিরলস প্রচেষ্টার প্রতিদান। উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধের কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলায়মানিকে হত্যা করে ওয়াশিংটন একটি ভয়ঙ্কর, কাণ্ডজ্ঞানহীন ও উত্তেজনা সৃষ্টিকারী পদক্ষেপ নিয়েছে।
অন্যদিকে, হাশদ আশ-শাবির মুখপাত্র আহমেদ আল-আসাদি এক বিবৃতিতে এ হত্যাকাণ্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলকে দায়ী করে এ হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত মার্কিন বিমান হামলা’ বলে অভিহিত করেন।
এর আগেও গত রোববার ইরাকের জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী হাশদ আশ-শাবি’র কয়েকটি ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়ে অন্তত ৩০ জওয়ানকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র।
এর প্রতিবাদে ইরাকি জনতা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয় এবং তারা গত মঙ্গলবার বাগদাদস্থ মার্কিন দূতাবাসের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায়। এসময় কুয়েত থেকে অতিরিক্ত ১০০ সেনা হেলিকপ্টারে করে এনে দূতাবাসের নিরাপত্তা রক্ষায় মোতায়েন করা হয়।



