২ হাজার ৫শ বছরের ঐতিহ্য বহন করছে জেদ্দার আল বালাদ শহর

জেদ্দা, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের লোহিত সাগরের তীরে তিতামাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। এটি মক্কা প্রদেশের সর্ববৃহৎ ও সৌদি আরবের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। ২০১২ সালের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় ৪৩ লক্ষ জনসংখ্যার এ শহরটি সৌদি আরবের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র।
কালের বিবর্তনে অনেক কিছু পরিবর্তন হলে জেদ্দার একটা অংশে এখনও দেখা মেলে বহুবছর আগের পুরনো কিছু স্থাপনা।
আধুনিকতার ছোঁয়ায় জেদ্দার চিত্র পাল্টে গেছে বহু বছর আগেই, কিন্তু আধুনিক জেদ্দার পুরনো শহর আল বালাদের একটা অংশ এখনো ধারণ করে আছে, ২৫০০ বছর আগে জেলেদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বেশ কিছু স্থাপনা, যা সৌদি আরবের ঐতিহ্য বহন করে।

বাব মক্কা বা মক্কার প্রবেশ গেইট, যা ঐতিহাসিকভাবে জেদ্দার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফটক, বিশেষ করে আরবের অফিশিয়াল হজযাত্রীদের বন্দর হিসেবে, ইসলামের পবিত্র নগরী মক্কায় প্রবেশের শুরুটা হয়েছে এখান থেকেই।
এর পাশে রয়েছে ১৯২০ সালে বাদশা আব্দুল আজিজ এর প্রতিষ্ঠা করা নাসিফ হাউস, এছাড়াও এখানে রয়েছে বহু বছর আগে বানানো বেশ কিছু বিল্ডিং, যা মাটি ও পাথর মিশ্রিত এবং কাঠ দ্বারা নির্মিত। কয়েকটি বিল্ডিংয়ে এখনো রয়েছে মানুষের বসতি, পুরো এলাকাটি ইউনেস্কো স্বীকৃত।
২০৪০ সাল পর্যন্ত এই স্থাপনাগুলো এমনি থাকবে, বিশেষ করে দুটি বিল্ডিং একটি প্রাচীন জেলেদের প্রতীক ও অন্যটি সৌদি আরবের শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে ঐতিহ্য বহন করে।

এছাড়াও এখানে রয়েছে বেদুইন মার্কেট যেখানে সৌদি আরবের পুরনো সব জিনিসপত্র, আসবাবপত্র,খাবার, পোশাকসহ ঐতিহ্যবাহী সবকিছুই পাওয়া যায়। সন্ধ্যার পর এখানে দেখা যায় সৌদিদের প্রাচীন খেলাধুলার, এক কথায় এই এলাকাটি মনে করিয়ে দেয় কয়েক যুগ আগের পুরনো সৌদি আরবকে।
বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের হাজিরা দেখতে আসেন জেদ্দার আল-বালাদের পাশে এই পুরনো স্থাপনাগুলো, এছাড়াও সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসা হয় সৌদি আরবের ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা দিতে, বর্তমানে বিভিন্ন দেশের টুরিস্টরাও ভিড় জমাচ্ছেন এ স্থানে।
সাইফুল রাজীব, জেদ্দা প্রতিনিধি



