অন্যান্যবাংলাদেশ

যে স্মৃতি বিভীষিকার

নতুন প্রজন্মসহ সবার সামনে একাত্তরের গণহত্যার ইতিহাস তুলে ধরতে খুলনায় গড়ে তোলা হয়েছে ১৯৭১ গণহত্যা নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর। এটি শুধু বাংলাদেশেই নয়, দক্ষিণ এশিয়ায়ও এ ধরণের প্রথম স্থাপনা। উদ্যোক্তারা বলছেন, নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যার বিষয় তুলে ধরে স্বাধীনতার চেতনা সমৃদ্ধ করতেই এ উদ্যোগ।

১৯৭১-এ নয় মাস ধরে চলা বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের পর অর্জিত বিজয়ের পেছনে রয়েছে গণহত্যার এক নির্মম ইতিহাস। যার নমুনার যথাযথ সংরক্ষণ নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।

এ গণহত্যার ইতিহাস নতুন প্রজন্মসহ সবার সামনে তুলে ধরতে খুলনায় গড়ে তোলা হয়েছে ‘১৯৭১: গণহত্যা নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর’। এখানে আছে বাঙালির মুক্তি, স্বাধীনতার স্পৃহা আর মুক্তিযুদ্ধকালের সবচেয়ে মর্মন্তুদ পর্বের অসংখ্য নিদর্শন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক, ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুনের উৎসাহে ২০১৪ সালের ১৭ মে  এই জাদুঘর যাত্রা শুরু করে। এর ১১ সদস্যের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন জানান, মুক্তিযুদ্ধকালীন গণহত্যা ও নিযার্তনের সঠিক ইতিহাস জাতির সামনে তুলে ধরতেই এ উদ্যোগ।

একাত্তরের গণহত্যা-নির্যাতনের নিদর্শন সংরক্ষণ, বধ্যভূমি ও গণকবর সংক্রান্ত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা, গণকবর ও বধ্যভূমি চিহ্নিত করা এবং গবেষণা নিয়ে কাজ করার কথাও জানান তিনি।

এ জাদুঘরে ৫ হাজারের ওপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই রয়েছে।  গণহত্যা ও নির্যাতনের ওপর বাঁধানো ছবি আছে ১৫৫টি।  মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রামাণ্যচিত্রের ২৫০টি সিডিসহ- রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যার নানা নিদর্শনও।

শুরুতে খুলনার শেরেবাংলা রোডের একটি ভাড়াবাড়িতে শুরু হয় এ কার্যক্রম। পরে, ২০১৫ সালে  নগরীর সাউথ সেন্ট্রাল রোডের একটি দ্বিতল বাড়ি উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী।  সংস্কারের পর ২০১৬ সালের ২৬ মার্চ সেই বাড়িতে স্থানান্তর হয় জাদুঘরটি।

এরপর সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় শুরু হয় এর আধুনিকমানের গণহত্যা আর্কাইভ ও জাদুঘরের বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্প। কাজ শেষ হলে, এটিই হবে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম আধুনিক গণহত্যা আর্কাইভ ও জাদুঘর।

আসাদ রিয়েল, বাংলাটিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button