দেশবাংলা

গাজীপুরে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

করোনা আতঙ্কে গৃহবন্দী খেঁটে খাওয়া মানুষের জন্য গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন হতে বরাদ্দকৃত ত্রান বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ঘরে অপেক্ষা করেও ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করেন খেঁটে খাওয়া গৃহবন্দী এসব মানুষ।

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, নগরীর ৪০, ৪৩, ৪৭, ৪৮ ও ৫৫ নং ওয়ার্ডে ত্রানের জন্য দীর্ঘ সময় ঘরে অবস্থান করেও ত্রান পাচ্ছে না শ্রমজীবী মানুষেরা। সাধারণ মানুষের অভিযোগ সরকার ঘরে থেকে বের হতে বারন করেছে। প্রায় পনেরো দিন যাবৎ ঘরে গৃহবন্দী থেকেও খাবার জুটছে না এসব ছিন্নমূল শ্রমজীবী মানুষের ভাগ্যে।

এমতবস্থায়, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ঘোষনা দেয় পনেরো দিনের খাবার পন্য বিতরন করা হবে। শুনে মেহনতী এসব মানুষের মুখে হাঁসি ফোঁটে। কিন্তু কিছুদিন না যেতেই সেই হাঁসি ক্ষুধার কারনে যেনো হারিয়ে যাচ্ছে। সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে এসব গরীব মানুষের। অনেকে আক্ষেপ করে বলেন, গাড়ি বন্ধ থাকায় তারা গ্রামের বাড়ি ফিরে যেতে পারছেন না। ঘোর অমানিশা ঘিরে আছে তাদের চারিদিকে।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের পূবাইলে ৪০ নং ওয়ার্ডের ভ্যানচালক মোঃ জুয়েল জানান, বেতন না দিয়েই বন্ধ হয়ে গেছে ফ্যাক্টরি। ঘর ভাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে বাড়ির মালিক। ঘরে চাল, ডাল নেই, যেতে পারছেন না গ্রামের বাড়ি। টিভিতে দেখছেন অনেকেই ঘরে এসে দিয়ে যাচ্ছে ত্রান। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কোন সাহায্য জোটেনি তার কপালে।

এছাড়া আরো অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলররা শুধু নিজ নিজ ওয়ার্ডের ভোটারদের মুখ দেখে দেখে রাতের আধারে ত্রান দিচ্ছে। অনেকে আবার ভোটার আইডি কার্ড দিয়েও ত্রাণ পাচ্ছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, ভোটার কার্ড নিয়ে গিয়েছিলাম কাউন্সিলরের কাছে। সেখানে তারা অপমান করে বলেন, তুমি তো আমার নির্বাচন করোনি। তুমি মিয়া ত্রাণ পাওয়ার যোগ্য না।

অন্যদিকে যাদের ভোটার আইডি নেই এবং যারা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভোটার নয় তাদের বিপদ আরও বেশী। তারা কোথাও গিয়ে দাঁড়াতেই পারছেন না। তবে বেশি অনিয়মের কথা উঠে এসেছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজিজুর রহমান শিরিষের বিরুদ্ধে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বরাদ্দকৃত ত্রাণ সামগ্রী একই পরিবার একাধিকবার পেয়েছে।

যাদের পরিবারে ত্রান দরকার নেই তাদের কাছেও পৌঁছে দিয়েছেন কাউন্সিলরের লোক। কিন্তু যাদের দরকার তারা পাননি এমনই অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তারা আরো অভিযোগ করেন, প্রত্যেক পরিবারকে করোনা ভাইরাস আপদকালীন চাল ১৫ কেজি, ডাল ২ কেজি, সয়াবিন তৈল ২ কেজি, আলু, পেঁয়াজ, লবণ ১ কেজি, সাবান ৪ টি ইত্যাদি সহ ফেস মাস্ক মিলে ১০ আইটেমের পণ্য সামগ্রী দেয়ার কথা শুনেছি। কিন্তু অনেকে চাউল মেপে দেখছে প্রতি বস্তায় ৫ কেজি করে কম রয়েছে।

এবিষয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজিজুর রহমান শিরিষ জানান, যে কয়জনের তালিকা করা হয়েছে তারা সেই পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী বরাদ্দ পাইনি। তাই কিছু লোক বাদ দিতে হয়েছে। যারা এখন ত্রাণ সামগ্রী পাননি পরবর্তীতে আবার বরাদ্দ পেলে বাকীদের কে দেয়া হবে।

তিনি আরো জানান, জনপ্রতি ১০ কেজি চাউল বরাদ্দ পেয়েছেন। যা এসেছে তাই দিয়েছি। দেশের এই ক্লান্তিলগ্নে প্রতিটি অভাবী, মধ্যবিত্ত প্রতিটি মানুষ যাতে সুষমভাবে ত্রান পায় এমটিই আশা করছেন বিশিষ্টজনেরা।

তাওহীদ কবির, টঙ্গী প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close