দেশবাংলা

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় ‘পুলিশ ফাঁড়িতে মৃত্যু’

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে অমানুষিক নির্যাতনে নিহত হয় যুবক রায়হান। সেই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শীরা বর্ণনা করলেন সেই রাতের ঘটনা।

রবিবার (১১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে সিলেট নগরীর কাষ্টঘরে সুইপার কলোনীর একটি ঘর থেকে রায়হানকে ধরে পুলিশ। এরপর সিএনজি অটোরিকশায় নিয়ে যায় বন্দরবাজার ফাঁড়িতে।

প্রত্যক্ষদর্শী কাষ্টঘরের বাসিন্দা সুরাইলাল বলেন, ‘হঠাৎ খুব স্পিডে দৌড় দিয়ে একজন দেয়ালের ওইদিকে গেছে, আরেকজন আমার রুমে। ঠিক ৫ মিনিট পর পুলিশ এসে দরজা ঠকঠক করে। দরজা খোলার পর তারা বলে এখানে একটা ছিনতাইকারী আছে। ছেলেটারে পরে হাতে হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে সুস্থ অবস্থায় এখান থেকে নিয়ে গেছে।’

এরপর সিএনজি অটোরিকশায় করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে। প্রত্যক্ষদর্শী সিএনজি অটোরিকশা চালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এনে আমার গাাড়িতে তুলেছে, তারপর ফাঁড়িতে নিয়ে আসে। আমি আমার গাড়িতে বসেছিলাম, পরে ঘুমিয়ে গেছি।

সকাল হওয়ার পর যারে নিয়ে রাতে আসলাম, তাকে মেডিক্যালে নিয়ে যেতে বলে। যে দুইজন ধরে নিয়ে আসছিলো তারা পরে মেডিক্যালে নিয়ে গেছে।’

ফাঁড়িতে কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে নির্যাতন। একদম ফাঁড়িঘেষা কুদরতউল্ল্যাহ বোর্ডিংয়ের কক্ষ থেকে রায়হানের চিৎকার শুনতে পান ব্যবসায়ী হাসান খান। তিনি বলেন, ‘চিৎকার শুুনেছি অনেক এরকম যে আমাকে মেরো না মেরো না, আমি চোর না, ডাকাত না। এরকম প্রচুর চিৎকার শুনতে পাই।’

ভোর হলে, আবার সেই সিএনজিতে করে নিথর রায়হানকে ওসমানী মেডিক্যালে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে, রায়হানের স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে দেখেন, হিমঘরে রাখা রায়হানের মৃতদেহ।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার (১১ অক্টোবর) ভোররাতে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করায় অসুস্থ হয়ে পড়েন ছিনতাইকারী সন্দেহে আটক রায়হান। এ অবস্থায় তাকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়। সূত্র: ডিবিসি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button