অন্যান্যবাংলাদেশ

ই-কমার্সে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে শিল্পখাত। চলমান ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের বিকাশ দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে বিশেষভাবে ভূমিকা রাখছে। এমনকি করোনা মহামারি বিশ্বব্যাপী ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করলেও, বাংলাদেশের এসএমই খাতে এটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। যার ফলে, দেশের ই-কমার্স ও ডাটাভিত্তিক আউটসোর্সিং নতুন গতি পেয়েছে।

নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের সমাজ ব্যবস্থায় আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য আনাই ছিল বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক উন্নয়ন দর্শনের মূলনীতি। তিনি গভীরভাবে বিশ্বাস করতেন, কৃষি ও শিল্পবিপ্লবের মাধ্যমে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পাশাপাশি, অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী করে তোলা সম্ভব।

সেই ধারাবাহিকতায়, সহজ শর্তে ঋণদানের মাধ্যমে এসএমই খাতে উদ্যোক্তা তৈরি ও বেকারত্ব দূরীকরণে বিশেষ ভূমিকা রাখছে বর্তমান সরকার। বিআইডিএস বলছে, মোট দেশজ উত্পাদন বা জিডিপির ২৫ শতাংশই আসে এসএমই খাত থেকে।  শিল্প খাতের কর্মসংস্থানেরও ৮৬ শতাংশই এই খাতে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, দেশে প্রায় ৬০ লাখ এসএমই উদ্যোক্তা রয়েছেন। আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সমীক্ষা অনুসারে, বর্তমানে দেশের প্রায় আড়াই কোটি মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে।

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতির নেতিবাচক অবস্থার মধ্যেও সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশের এসএমই খাত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ফলে বিদায়ী অর্থবছরে বাংলাদেশে ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

পণ্য বিপণন সম্প্রসারণে এসএমই উদ্যোক্তা এবং ক্রেতাদের মধ্যে সংযোগ শক্তিশালী করতে উদ্যোগ নিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এসএমই ফাউন্ডেশন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, করোনার ফলে প্রচলিত এসএমই শিল্পকে টেকসই ডিজিটাল বিজনেসে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একে কাজে লাগিয়ে এসএমই খাতকে ডিজিটালাইজড করার মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের উদ্যোক্তাদের জন্য ই-কমার্সভিত্তিক এসএমই হাব তৈরি করা গেলে, আরও সমৃদ্ধ হতে পারে দেশের অর্থনীতি।

আসাদ রিয়েল, বাংলা টিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button