fbpx
বাংলাদেশ

লন্ডন থেকে দেশের অবস্থা সম্পর্কে আব্দুল গাফফার চৌধুরীর বক্তব্য

গত কয়েক দিনে বাংলাদেশে যা ঘটেছে তা আকস্মিক নয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে ধর্মান্ধদের উত্থান আকস্মিক ছিল না, অপ্রত্যাশিতও ছিল না। কারন বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার সময় দেখা গেছে যে, দেশের এক বিরাট সংখ্যক মানুষকে জামাত এবং অন্যান্য ধর্মান্ধ দল প্রভাবিত করে রেখেছিল। পাকিস্তান ও আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী দেশগুলোর সহায়তায় বাংলাদেশের যে মূল স্তম্ভ ধর্মনিরপেক্ষতা তাকে ধংস করার চেষ্টা করছিল, কখনো গোপনে কখনো প্রকাশ্যে।

বঙ্গবন্ধু এই সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। দেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক ব্যবস্থায় পরিচালনা করার জন্য তিনি যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন তা ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট তাঁর নির্মম রক্তস্নাত প্রস্তানের মধ্যদিয়ে ধংস করা হয়। দীর্ঘ ২১ বছর পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রব্যবস্থায় ফিরে যেতে পারেনি। এখানেই আমাদের পরাজয় হয়েছে।

আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষমতা্য় আসার পরে দেশের অনেক অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছে কিন্তু যে মূল ব্যবস্থাটা বঙ্গবন্ধু চালু করেছিলে তা শক্তিশালী করা যায়নি। আজকে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির বারবার যে উত্থান ঘটেছে তার রোধ না করা গেলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যত রক্ষা করা যাবে না।

গত অষ্টমি—নবমি—দশমীর দিন হাজীগঞ্জ, নোয়াখালী, পীরগঞ্জে যে রক্তপাত ঘটেছে তা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ধংস করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। বারবারই এই ধর্মান্ধ শক্তি কখনো জামাতের বেশে কখনো হেফাজতের বেশে মাথা তুলেছে এবং দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোকে নির্মমভাবে অত্যাচার করেছে। আমরা যদি দেশে সংখ্যালঘুদের রক্ষা করতে না পারি, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারি, তা হলে বিএনপি জামাতের ষড়যন্ত্রই শেষ পর্যন্ত সফল হবে এবং আফগানিস্তান থেকে তালেবানদের বাংলাদেশে আসার পথ করে দেয়া হবে।

আমি বাংলাদেশ থেকে বহু দূরে লন্ডনে একটি হাসপাতালে রুগশয্যায় শুয়ে গভীর হতাশা বোধ করেছি দেশের অবস্থা শুনে। এই দেশের জন্য আমরা যুদ্ধ করি নাই। আমাদের সব স্বপ্নকে ধংস করে দিয়ে একটি ধর্মান্ধ বাংলাদেশ তৈরী হবে কখনো তা চিন্তা করি নাই। তাই রুগশয্যায় শুয়ে আমার তরুণ সমাজের কাছে আহ্বান জানাই দানবের বিরুদ্ধে আবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়াবার জন্য। বিদায়ের আগে ডাক দিয়ে যাই, দানবের সাথে সংগ্রামের তরে প্রস্তুত হও ঘরে ঘরে।

শেখ হাসিনার কাছে আমার সনির্বন্ধ অনুরোধ, সময় থাকতে সঠিক সঙ্গীদের বেছে নাও। সামনে যে ভয়াবহ সংগ্রাম আসছে তাতে পরীক্ষিত সঙ্গী দরকার। যারা সুবিধাবাদী এসে জুটেছে তাদের হাত থেকে আওয়ামী লীগকে মুক্ত করো। দেশের তরুণ প্রজন্মকে পথ দেখাও। দেশকে রক্ষা করো, বঙ্গবন্ধুর চিহ্নত পথে চলো, অন্য পথে গেলে দেশকে রক্ষা করা যাবে না।

বাংলাটিভি/ সাকিব

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button