fbpx
বাংলাদেশশিক্ষা

শিক্ষামন্ত্রীর সাথে শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের বৈঠক

KSRM

সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দল।

শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সিলেট সার্কিট হাউজে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিনিধি দলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ১১ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা রয়েছেন মুহাইমিনুল বাশার রাজ, ইয়াসির সরকার, নাফিসা আনজুম, সাব্বির আহমেদ, আশিক হোসাইন মারুফ, সাবরিনা শাহরিন রশীদ, সুদীপ্ত ভাস্কর, শাহরিয়ার আবেদিন, আমেনা বেগম, মীর রানা ও জাহিদুল ইসলাম অপূর্ব।

শিক্ষার্থী মোহায়মিনুল বাশার বলেন, আমাদের মূল দাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ। তবে বর্তমানে অন্তত তাকে সরিয়ে অন্য কাউকে দিয়ে দ্রুত ক্লাস-পরীক্ষা চালু করা, শিক্ষার্থীদের ওপর করা পৃথক দুই মামলা প্রত্যাহার, বন্ধ মোবাইল অ্যাকাউন্টগুলো চালু এবং স্প্রিন্টারে জর্জরিত সজল কুন্ডুর এককালীন আর্থিক সহযোগিতা প্রদান নিয়ে আলোচনা হবে।

এছাড়া সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা খাতে বাজেট প্রয়োজন অনুসারে বৃদ্ধি, পরীক্ষা পদ্ধতিতে কোডিং সিস্টেম কার্যকর, শিক্ষক নিয়োগে পিএইচডি এবং ডেমো ক্লাসের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া, বছরের ৩৬৫ দিন আবাসিক হল খোলা রাখাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনার কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জানুয়ারি একটি ছাত্রী হলের প্রভোস্টকে সরানোর দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের কর্মীরা ছাত্রীদের আন্দোলনে হামলা চালালে, পরের দিন হামলার প্রতিবাদ ও একই দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যান শিক্ষার্থীরা। এদিন বিকালে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তখন শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিপেটা, গুলি, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে পুলিশ। এতে অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। ওইদিন রাতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস ও হল বন্ধ করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপর থেকেই উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এরই ধারাবাহিকতায় ২৮ শিক্ষার্থী আমরণ অনশনেও বসেন। ১৬৩ ঘণ্টা অনশনের পর গত ২৬ জানুয়ারি সকালে শাবির সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী অধ্যাপক ইয়াসমিন হকের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা অনশন ভেঙে উপাচার্যের বাসভবনের ফটকের ব্যারিকেড তুলে নেন।

অনশন ভাঙানোর পর অধ্যাপক জাফর ইকবাল সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘এখানে আসার আগে আমার সঙ্গে সরকারের উচ্চমহল থেকে কথা হয়েছে। তারা আমাকে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তাদের আশ্বাস পেয়েই আমি এখানে এসেছি। আমি তাদের অনুরোধ করবো, তারা আমাকে যে কথা দিয়েছেন সেগুলো যেন রক্ষা করেন। আমি আর এই ছাত্রদের ভেতর কোনও পার্থক্য নেই। আমাকে দেওয়া কথা না রাখলে সেটা কেবল আমার সঙ্গে না, এই দেশের সমস্ত প্রগতিশীল মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে।

বাংলাটিভি/শহীদ

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button