রাজনীতিঅন্যান্যজাতীয় নির্বাচন

ভোটে জিতে হাঁস কোলে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে রুমিন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক এলাকা) স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থীকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন। ‘হাঁস’ প্রতীকে নির্বাচন করে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব ‘খেজুর গাছ’ প্রতীকে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট। ফলে প্রায় ৩৮ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।

জয়ের পর শুক্রবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রুমিন ফারহানা। সেখানে তিনি জানান, বিএনপি থেকে বেরিয়ে এসে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং জয়লাভের পথ তার জন্য সহজ ছিল না। তবে তার মতে, তার চেয়ে বেশি কঠিন সময় পার করেছেন তার কর্মীরা, যারা দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পাশে থেকেছেন। তিনি বলেন, জয়ী না হলে হয়তো তাকে ঢাকায় ফিরে গিয়ে পেশাগত জীবনে ফিরে যেতে হতো, কিন্তু তার কর্মীরা কখনো আশা হারাননি।

নির্বাচনের দিন কিছু কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতির চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিশেষ করে একটি কেন্দ্রের কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে ফলাফল আটকে রাখার চেষ্টা হয়েছিল এবং ভোট গণনার সময় কিছু অনিয়ম ধরা পড়ে।

প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, যেহেতু তিনি দলীয় প্রার্থী নন, তাই নিজের অবস্থান ধরে রাখতে হলে তাকে কাজের মাধ্যমেই জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। কাজ ছাড়া তার সামনে আর কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হাঁস প্রতীক বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি ব্যক্তিগত স্মৃতির কথা তুলে ধরেন। ছোটবেলায় তাদের পরিবারে হাঁস-মুরগি ও কবুতর পালনের অভ্যাস ছিল, যা তার শৈশবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। সেই স্মৃতি থেকেই তিনি হাঁস প্রতীকটি বেছে নেন বলে জানান।

উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর তিনি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হন। একাদশ জাতীয় সংসদে তিনি বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন এবং দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা চালানোর অভিযোগে তার পক্ষে সক্রিয় থাকা স্থানীয় কয়েকজন নেতাকেও বহিষ্কার করা হয়।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button