যুক্তরাষ্ট্রআন্তর্জাতিকইউরোপএশিয়ামধ্যপ্রাচ্যযুক্তরাজ্য

ইরান যু/দ্ধ ‘আমাদের যু/দ্ধ নয়’, ট্রাম্পকে জানালো ইউরোপ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বান সত্ত্বেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নিতে রাজি নয় জার্মানি, ফ্রান্স ও স্পেনসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো।

বুধবার (১৮ মার্চ) জার্মানির পার্লামেন্ট বুন্ডেসটাগে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস জানান, এই যুদ্ধ ইউরোপের নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইউরোপ কোনোরকম সামরিক কার্যক্রমে যুক্ত হবে না, কারণ ওয়াশিংটন ইউরোপের সঙ্গে পরামর্শ না করে সাহায্য প্রত্যাশা করছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁও একই অবস্থান নেন, স্পষ্ট করে বলেন যে ফ্রান্স এই সংঘাতের কোনো পক্ষ নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে যোগ দিচ্ছে না। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইরানের ওপর হামলাকে ‘বেপরোয়া ও অবৈধ’ বলে অভিহিত করেছেন এবং স্পেনে অবস্থিত যৌথ সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে না দিলে ট্রাম্পের হুমকি তারা মানছে না।

ইউরোপীয় দেশগুলোর এই অনড় অবস্থানের পেছনে জনমত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জরিপ অনুযায়ী, ব্রিটেনে ৪৯%, জার্মানিতে ৫৮% এবং স্পেনে ৬৮% মানুষ ইরানের ওপর সামরিক হামলার বিরোধী। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও দেশের জনগণের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।

ম্যার্ৎস ও অন্যান্য নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, আমেরিকার এই যুদ্ধের উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয় এবং এটি সম্ভবত ইসরায়েলের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। হরমুজ প্রণালীতে তেল পরিবহন ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় দেশগুলো নিজস্ব পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই অন্যান্য দেশকে নিয়ে একটি স্বতন্ত্র জোট গঠন করার চেষ্টা করছে, যা ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনে সহায়ক হবে। ইইউ-এর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কালাস বলেন, ট্রাম্পের ‘অপ্রত্যাশিত’ আচরণ মোকাবেলায় ইউরোপ আগের তুলনায় বেশি সতর্ক এবং শান্ত অবস্থান বজায় রেখেছে।

সূত্র: রয়টার্স

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button