আন্তর্জাতিকএশিয়ামধ্যপ্রাচ্যযুক্তরাজ্যযুক্তরাষ্ট্র

যু/দ্ধে/র কারণে ফুরিয়ে আসছে যুক্তরাজ্যের ওষুধের মজুত

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংঘাত চলতে থাকলে যুক্তরাজ্যে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ব্যথানাশক ও ক্যানসারের ওষুধসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধের সংকট দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে ওষুধের দামও বাড়তে পারে। সংঘাতের কারণে তেল, গ্যাস, সার ও হিলিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় স্বাস্থ্য খাতেও প্রভাব পড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক রেটিং এজেন্সি মুডিসের সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড উইকস জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালির বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওষুধের সরবরাহ জটিল হয়ে পড়েছে। ভারত জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনের বড় কেন্দ্র হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখান থেকে ওষুধ আনা কঠিন হয়ে গেছে। এছাড়া দুবাই, দোহা ও আবুধাবির বিমানবন্দর আংশিকভাবে বন্ধ থাকায় ওষুধ পরিবহনে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

মেডিসিনস ইউকের প্রধান নির্বাহী মার্ক স্যামুয়েলস জানিয়েছেন, এখনও সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তবে সাধারণত সরবরাহকারীরা ৬–৮ সপ্তাহের মজুত রাখেন। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ঘাটতি দেখা দিতে পারে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় যেমন প্যারাসিটামলসহ ব্যথানাশকের সংকট দেখা দিয়েছিল, তেমন পরিস্থিতি আবার তৈরি হতে পারে। যুক্তরাজ্যে অর্ধেক ওষুধ দেশেই উৎপাদিত হয়, এক-তৃতীয়াংশ আসে ভারত থেকে এবং বাকিটা ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে।

এন্টওয়ার্প ম্যানেজমেন্ট স্কুলের অধ্যাপক ওয়াউটার ডিউলফ বলেন, সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তবে ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি খারাপ হলে এক অঙ্কের হারে দাম বাড়তে পারে। ফার্মা সরবরাহ বিশেষজ্ঞ ফ্র্যাঙ্ক ভ্যান গেলডার জানিয়েছেন, আকাশপথে পরিবহন কমে যাওয়ায় দ্রুত সরবরাহের প্রয়োজনীয় ওষুধ, যেমন ক্যানসার ও সংক্রামক রোগের ওষুধ, সেল ও জিন থেরাপি এবং শীতল সংরক্ষণপ্রণালী দরকার এমন ওষুধগুলো সময়মতো পৌঁছানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে।

তেল ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির কারণে ওষুধ উৎপাদনের খরচও বেড়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত এই অতিরিক্ত ব্যয় রোগী বা সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপরই পড়বে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button