যুক্তরাষ্ট্রআন্তর্জাতিকইউরোপএশিয়া

ন্যাটোর কবর খুঁড়ছেন ট্রাম্প, আড়ালে মিটিমিটি হাসছে রাশিয়া

মার্কিন রাজনীতিতে আবারও ন্যাটো জোটকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যেখানে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাটো মিত্রদের প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্পের অসন্তোষ ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে জোটের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন ও মতবিরোধ আরও স্পষ্ট হয়েছে, যা ন্যাটো-এর স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপে ইউরোপীয় মিত্রদের সরাসরি অংশ না নেওয়ার বিষয়টি ট্রাম্পের ক্ষোভ বাড়িয়েছে। তিনি এই অবস্থাকে ন্যাটোর জন্য ‘কলঙ্ক’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং বলেন, এটি সহজে মুছে যাবে না।

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস এ পরিস্থিতিকে ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ন্যাটো থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বের হওয়া আইনগত ও রাজনৈতিকভাবে প্রায় অসম্ভব, কারণ এর জন্য কংগ্রেসে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন, যা পাওয়া কঠিন। তবে বিকল্প পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহযোগিতা সীমিত করা বা ইউরোপে অবস্থানরত সেনা সংখ্যা কমানোর মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

বর্তমানে ইউরোপে প্রায় ৮৪ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে, যা ন্যাটোর নিরাপত্তা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব বাহিনী প্রত্যাহার করা হলে জোটের সামরিক ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সাবেক ন্যাটো কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু জোট ছাড়ার ঘোষণা নয়, বরং এর প্রতি আস্থা কমিয়ে দেওয়াই ন্যাটোকে সবচেয়ে বেশি দুর্বল করে তুলতে পারে।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের অবস্থান ও মন্তব্য ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ, ইউরোপের নিরাপত্তা এবং রাশিয়ার ভূরাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button