ফুটবলখেলাধুলা

বিশ্বকাপে সবচেয়ে শক্তিশালী ফ্রান্স, সেরা ২০ দলের তালিকায় কোথায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা

বাংলা টিভি ডেস্ক: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে নানা রকমের বিশ্লেষণ। তিনটি দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আসরে অংশ নিচ্ছে ৪৮টি দল, যেখানে রয়েছে পরাশক্তি থেকে শুরু করে নতুন ইতিহাস গড়তে আসা আন্ডারডগরা। কেউ আসছে শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে, কেউবা শুধু প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করতে। তারকাখচিত এই টুর্নামেন্টে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো থেকে শুরু করে নতুন প্রজন্মের অনেক মুখ লড়াইয়ে নামবে। শক্তি, কৌশল আর ভাগ্যের এই মহারণে কাদের অবস্থান কেমন, তারই একটি বিশ্লেষণ করেছে ফক্স স্পোর্টস।

১. ফ্রান্স: বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবে ফ্রান্স শিরোপার প্রধান দাবিদার। কিলিয়ান এমবাপ্পের গতি, ফিনিশিং ও বড় ম্যাচে পারফর্ম করার ক্ষমতা তাদের আক্রমণভাগকে ভয়ংকর করে তুলেছে। মিডফিল্ডে নিয়ন্ত্রণ ও রক্ষণে গভীরতা; সব মিলিয়ে দলটি প্রায় নিখুঁত। কোচ দিদিয়ের দেশমের অভিজ্ঞতা বড় টুর্নামেন্টে বাড়তি সুবিধা দেয়। গ্রুপ আই-তে তাদের প্রতিপক্ষ সেনেগাল, ইরাক ও নরওয়ে। কাগজে-কলমে সহজ মনে হলেও নরওয়ে ও সেনেগাল ম্যাচ দুটিই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে।

২. স্পেন: তিকি-তাকা দর্শনকে আধুনিক রূপ দিয়ে স্পেন আবারও বিশ্বফুটবলের শীর্ষে। পেদ্রির সৃজনশীলতা, দ্রুত পাসিং এবং বল দখলে আধিপত্য তাদের বড় শক্তি। ইউরো জয়ের পর আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। গ্রুপ এইচ-এ কেপ ভার্দে, সৌদি আরব ও উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে; যেখানে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি গ্রুপের সেরা লড়াই হতে পারে।

৩. ইংল্যান্ড: দীর্ঘদিন পর সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড নিয়ে এসেছে ইংল্যান্ড। জুড বেলিংহাম, হ্যারি কেইন ও ডেকলান রাইসের নেতৃত্বে আক্রমণ ও মিডফিল্ড দুই বিভাগই শক্তিশালী। যদিও বড় প্রশ্ন- তারা চাপ সামলাতে পারবে কি না। গ্রুপ এল-এ ক্রোয়েশিয়া, ঘানা ও পানামার বিপক্ষে খেলবে তারা।

৪. কলম্বিয়া: যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া দক্ষিণ আমেরিকার দল হিসেবে কলম্বিয়ার পক্ষে যেতে পারে। হামেস রদ্রিগেজের অভিজ্ঞতা এবং লুইস দিয়াজের গতি দলটিকে বিপজ্জনক করে তুলেছে। গ্রুপ কে-তে উজবেকিস্তান, কঙ্গো ডিআর ও পর্তুগালের সঙ্গে লড়বে তারা। যেখানে পর্তুগাল ম্যাচটি হতে পারে গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণী।

৫. আর্জেন্টিনা: বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনা সবসময়ই হুমকি। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দলটি অভিজ্ঞ ও সংগঠিত। তবে ব্যাক-টু-ব্যাক শিরোপা জেতা কঠিন চ্যালেঞ্জ। গ্রুপ জে-তে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষে খেলবে তারা।

৬. পর্তুগাল: ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপের আবেগ দলকে উজ্জীবিত করতে পারে, আবার চাপও তৈরি করতে পারে। তরুণ প্রতিভা ও অভিজ্ঞতার ভারসাম্য রয়েছে। গ্রুপ কে-তে প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া, কঙ্গো ডিআর ও উজবেকিস্তান।

৭. ব্রাজিল: প্রত্যাশা কম থাকলেও ব্রাজিল সবসময় বিপজ্জনক। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গতি আক্রমণে বড় অস্ত্র। গ্রুপ সি-তে তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো, স্কটল্যান্ড ও হাইতি।

৮. নেদারল্যান্ডস: শক্তিশালী রক্ষণভাগ থাকলেও আক্রমণে ধার কম। ভার্জিল ভ্যান ডাইকের নেতৃত্বে দলটি প্রতিযোগিতামূলক। গ্রুপ এফ-এ তাদের জাপান, সুইডেন ও তিউনিসিয়া।

৯. জার্মানি: বড় টুর্নামেন্টে জার্মানির অভিজ্ঞতা তাদের সবসময়ই বিপজ্জনক করে তোলে। জামাল মুসিয়ালার সৃজনশীলতা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গ্রুপ ই-তে ইকুয়েডর, আইভরি কোস্ট ও কুরাসাও দলটির প্রতিপক্ষ।

১০. ক্রোয়েশিয়া: লুকা মদরিচের অভিজ্ঞতা এখনো দলের বড় শক্তি। মিডফিল্ডে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সক্ষম তারা। গ্রুপ এল-এ দলটির প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, ঘানা ও পানামা।

১১. বেলজিয়াম: সহজ গ্রুপে পড়লেও নকআউটে তাদের আসল পরীক্ষা। কেভিন ডি ব্রুইনের নেতৃত্বে দলটি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে সক্ষম। গ্রুপ জি-তে দলটির প্রতিপক্ষ মিশর, ইরান ও নিউজিল্যান্ড।

১২. যুক্তরাষ্ট্র: স্বাগতিক হিসেবে বাড়তি সুবিধা থাকলেও সাম্প্রতিক ফর্ম উদ্বেগজনক। ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের ওপর নির্ভরতা বেশি। গ্রুপ ডি-তে স্বাগতিকদের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও তুরস্ক।

১৩. মরক্কো: ২০২২ বিশ্বকাপের সাফল্যের পর এবার তাদের ওপর প্রত্যাশা অনেক বেশি। আশরাফ হাকিমির নেতৃত্বে দলটি সংগঠিত। গ্রুপ সি-তে ব্রাজিল, স্কটল্যান্ড ও হাইতি।

১৪. মেক্সিকো: ঘরের মাঠে খেললেও চাপ সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ। রাউল জিমেনেজের অভিজ্ঞতা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গ্রুপ এ-তে তারা লড়বে দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও চেকিয়ার বিপক্ষে।

১৫. উরুগুয়ে: নতুন প্রজন্মের দল হলেও উরুগুয়ের লড়াকু মানসিকতা অটুট। ফেদেরিকো ভালভার্দে বড় ভূমিকা রাখবেন। গ্রুপ এইচ-এ তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন, সৌদি আরব ও কেপ ভার্দে।

১৬. নরওয়ে: আর্লিং হালান্ড বড় তারকা হলেও দলগত সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। গ্রুপ আই-তে তাদের বাকি ৩ প্রতিপক্ষ ফ্রান্স, সেনেগাল ও ইরাক।

১৭. ইকুয়েডর: প্রতিভাবান দল, তবে বড় মঞ্চে প্রমাণ দরকার। গ্রুপ ই-তে তাদের প্রতিপক্ষ জার্মানি, আইভরি কোস্ট ও কুরাসাও।

১৮. জাপান: সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে জাপান শক্তিশালী দল হিসেবে উঠে এসেছে। শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল তাদের বড় শক্তি। গ্রুপ এফ-এ নেদারল্যান্ডস, সুইডেন ও তিউনিসিয়ার বিপক্ষে খেলবে তারা।

১৯. সুইজারল্যান্ড: রক্ষণাত্মক ও শৃঙ্খল ফুটবলের জন্য পরিচিত দলটি। সহজে হার মানে না। গ্রুপ বি-তে কানাডা, কাতার ও বসনিয়ার বিপক্ষে খেলবে ইউরোপের এই দেশ।

২০. দক্ষিণ কোরিয়া: সন হিউং-মিনের নেতৃত্বে দলটি প্রতিযোগিতামূলক হলেও গ্রুপ কঠিন। গ্রুপ এ-তে মেক্সিকো, চেকিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে লড়বে হবে এশিয়ার দেশটিকে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button