আন্তর্জাতিকইন্ডিয়াএশিয়া

‘ভারতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন না শেখ হাসিনা’

বাংলা টিভি ডেস্ক: ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন না বলে ভারতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটিকে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের জেরে তৈরি হওয়া আলোচনার প্রেক্ষাপটে এ অবস্থান পরিষ্কার করল নয়াদিল্লি। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ভারত থেকে দেশে ফেরামাত্রই শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে ঢাকা থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণ আবেদনের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে- বিষয়টি নিয়ে ভারত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করছে। প্রযোজ্য আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ীই এই আবেদন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কংগ্রেস আইনপ্রণেতা শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি তাদের ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের বিষয়টি ভারতের দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি ও মানবিক ঐতিহ্যের অংশ। চরম সংকটে বা অস্তিত্বের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয় দেয়া ভারতের একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত।

তবে কমিটি স্পষ্ট করে জানায়, এই মানবিক আশ্রয় দেয়ার ক্ষেত্রে ভারত একটি কঠোর নীতি অনুসরণ করে- তা হলো, ভারতের মাটি ব্যবহার করে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেয়া হবে না।

সংসদীয় কমিটি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রদান কার্যক্রম দ্রুত ও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করার জোর সুপারিশ করেছে। ভিসা সীমিত করার ফলে দুদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হচ্ছে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রভাব ফেলছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে কমিটি।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে দুই বছর বন্ধ থাকার পর, চলতি বছরের ২৮ জুন থেকে ভারত পুনরায় বাংলাদেশী পর্যটকদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা প্রদান চালু করে।

গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নে আলোচনার তাগিদ

১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদী ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি ২০২৬ সালেই শেষ হতে চলেছে। চুক্তিটির নবায়ন নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সংসদীয় কমিটি।

বিলম্ব না করে দ্রুত ঢাকার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। হালনাগাদ হাইড্রোলজিক্যাল (জলাশয় সংক্রান্ত) ডেটা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে চুক্তি নবায়নের পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে ভারতের কূটনৈতিক আলোচনার অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে বজায় রাখার সুপারিশ করেছে কমিটি।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button