অন্যান্য

আবিয়ার সম্মেলনের গবেষণাপত্র প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের নাম ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস (AaBea)-এর ২১তম দ্বিবার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত গবেষণাপত্র প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ডেট্রয়েটে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বাংলাদেশ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, প্রকৌশলী, স্থপতি, শিক্ষক-গবেষক এবং পেশাজীবীরা অংশ নেন।

১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত আবিয়া-এর উত্তর আমেরিকা জুড়েই নয়টি চ্যাপ্টার রয়েছে, যার মধ্যে বর্তমানে ছয়টি সক্রিয়। প্রতি দুই বছর পর পর সংগঠনের বিভিন্ন চ্যাপ্টারের আয়োজনে এ দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল— “স্মার্ট, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক একটি ভবিষ্যতের জন্য প্রকৌশল ও স্থাপত্য” (Engineering and Architecture for a Smarter, Sustainable and Inclusive Future)।

ক্যারিয়ার নেটওয়ার্কিং, এসটিএম ফেয়ার (STEM Fair) ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এবারের সম্মেলনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি সেমিনার। সেমিনারে গবেষণাপত্র উপস্থাপনের জন্য গত মার্চে প্রকৌশলী, স্থপতি, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কারিগরি গবেষণাপত্র আহ্বান করে AaBea-এর কারিগরি কমিটি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও গবেষণাপত্র আহ্বান করা হয়। ঘোষণা করা হয় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী গবেষণাপত্রের জন্য নগদ পুরস্কার।

আহবানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৬টি এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের কাছ থেকে আরও ১৬টি গবেষণাপত্র জমাপড়ে। আয়োজকদের মতে, গবেষণার মান ও বিষয়বৈচিত্র্যের দিক থেকে প্রতিটি পেপারই প্রশংসনীয় ছিল। গবেষণাপত্রগুলোর এই উপস্থাপন উদ্ভাবন ও জ্ঞান বিনিময়ের পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থাপত্য পেশাজীবীদের অবদান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে।

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজয়ীরা হলো- বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আহমেদ ওয়াসিক ইবরার, অরণ্য দত্ত ও মাইশা তারান্নুম। তাদের গবেষণাপত্রের শিরোনাম— “EcoMedix: A Low-Cost, Automated Sodium Hypochlorite Liquid Waste Treatment System for Small-Scale Healthcare Facilities in Bangladesh”। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে ১২ হাজারেরও বেশি বেসরকারি ক্লিনিক, ডেন্টাল চেম্বার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এসব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিনিয়ত উৎপন্ন রক্তমিশ্রিত তরল বর্জ্যের যথোচিত পরিশোধনের জন্য একটি কম খরচের, বাস্তবসম্মত ও স্বয়ংক্রিয় সমাধানের প্রস্তাব করা হয়েছে এই গবেষণাপত্রটিতে। তাদেরকে প্রথম পুরস্কার হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।

বুয়েটের কেমিকৌশল বিভাগের সুস্মিতা ঘোষ। তার গবেষণাপত্রের শিরোনাম— “Biomimetic Resilience: Nacre-Inspired Jute-Polymer Composites for Sustainable and Seismic-Ready Housing in Bangladesh”। গবেষণাটিতে পাটের আঁশ ও বর্জ্য প্লাস্টিক ব্যবহার করে ঝিনুক বা শামুকের খোলসের মতো শক্ত ও স্থিতিস্থাপক গাঁথুনির উপকরণ তৈরির সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য টেকসই ও ভূমিকম্প-সহনশীল আবাসন নির্মাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাকে দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে।

বুয়েটের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নাফিস আহানাফ, নাফিসা আমিন হৃদি ও তারিক আরাফাত। তাদের গবেষণাপত্রের শিরোনাম— “Design and Physicochemical Characterization of Magnetically Guided Polysaccharide-Functionalized Nanocarriers for Targeted Cancer Therapy”। এ গবেষণায় ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর শরীরের নির্দিষ্ট ক্যান্সার টিস্যুতে কীভাবে কেমোথেরাপির ওষুধ সরাসরি পৌঁছে দেওয়া যায় এবং একই সঙ্গে সুস্থ অঙ্গ ও টিস্যুর ওপর ওষুধের ক্ষতিকর প্রভাব কমানো যায়, তার একটি সম্ভাবনাময় পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে। তাদেরকে তৃতীয় পুরস্কার ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।

এছাড়া উল্লেখযোগ্য গবেষণাপত্রের মধ্যে রয়েছে বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী অনিন্দ্য গুহা ও নাফিসা তানিষার গবেষণা। বুয়েটের সিএই (CAE) ল্যাবের জিটি-সুইট (GT-Suite) সফটওয়্যার ব্যবহার করে তারা ডেটাসেন্টারের শীতলীকরণ ব্যবস্থা আরও দক্ষ ও কার্যকর করার সম্ভাব্য পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করেছেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের শেষের দিকে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিন বিজয়ী গবেষক-শিক্ষার্থীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারের অর্থ ও সনদ তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত কর্মসূচি পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button