এশিয়াআন্তর্জাতিকইন্ডিয়া

ভারতে মাইকে আজান দেওয়ায় কারাগারে মুয়াজ্জিন

বাংলা টিভি ডেস্ক: ভারতে মাইকে আজান দেওয়ার অভিযোগে এক মুয়াজ্জিনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত শনিবার উত্তর প্রদেশের বিজনোর জেলার নাজিবাবাদে একটি গণশুনানিতে যাওয়ার পথে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) ও পুলিশ সুপার (এসপি) আজানের আওয়াজ শুনতে পেয়ে এই নির্দেশ দেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ ওই মসজিদের মাইক জব্দ করে এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করে।

এ ঘটনার পর জেলাজুড়ে একটি বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এতে প্রতিটি পুলিশ স্টেশনকে তাদের এলাকার ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে থাকা মাইকগুলো নির্ধারিত শব্দসীমা মেনে চলছে কি—তা নিশ্চিত করে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, বিজনোরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উমেশ প্রতাপ সিং ও পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই ‘সমাধান দিবস’-এর একটি শুনানিতে অংশ নিতে মহল্লা মাকবারা এলাকা অতিক্রম করছিলেন। সে সময় তারা একটি মসজিদ থেকে আজানের আওয়াজ শুনতে পান।

এসপি বিষ্ণোই তৎক্ষণাৎ কোতোয়ালি পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। নির্দেশনা পেয়ে থানার ওসি অমিত কুমার মালিক মসজিদে গিয়ে মাইকটি জব্দ করেন এবং মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ ফাইজানকে আটক করেন।

পরবর্তীতে এসআই সৌরভ কুমারের আবেদনের প্রেক্ষিতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ফাইজানের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। পাশাপাশি শান্তি ভঙ্গের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে নিজ এলাকায় শব্দসীমা বিধিনিষেধ কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিট কনস্টেবল ললিত কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে পুলিশ প্রশাসন। একই সঙ্গে বিজনোরের সব থানার ওসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেন বিট কনস্টেবলদের মাধ্যমে নিজ নিজ অধিক্ষেত্রের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাইক অনুমোদিত সীমার মধ্যে চলার প্রত্যয়নপত্র বা হলফনামা জমা দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের নিয়ম লঙ্ঘন হলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি ও বিট কর্মীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কৃষ্ণ গোপাল সিং জানান, শব্দদূষণ নিয়ে সরকার ও আদালতের নির্দেশনাবলী বাস্তবায়নে জেলাজুড়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ধর্মীয় স্থানে নির্ধারিত শব্দসীমার বাইরে লাউডস্পিকার ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দেখভালকারীদের নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং নিজ নিজ এলাকায় বিষয়টি নিশ্চিত করতে পুলিশ কর্মকর্তাদেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button