দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত: বাসটি চালাচ্ছিলেন সুপারভাইজার, গতি ছিল বেপরোয়া

বাংলা টিভি ডেস্ক: নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের সময় আরপি স্পেশাল পরিবহনের বাসটি চালাচ্ছিলেন সুপারভাইজার সোহেল রানা (৩৮)। এ সময় বাসটির চালক ও সহকারী পেছনের আসনে ঘুমাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া তিন যাত্রী। এ দুর্ঘটনায় সুপারভাইজার সোহেল রানাসহ মোট ১৪ জন নিহত হয়েছেন।
নিহত সোহেল রানা রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরাদপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েক বছর আগেও তিনি বাস চালাতেন। তবে প্রায় দুই বছর আগে চালকের চাকরি ছেড়ে সুপারভাইজার হিসেবে কাজ শুরু করেন।
বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কে আরপি স্পেশাল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলসহ বিভিন্ন সময়ে মোট ১৪ জনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় আহত অন্তত ২৫ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দুর্ঘটনার সময় বাসে থাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাসিন্দা রমজান আলী (২৮) প্রাণে বেঁচে গেলেও আহত হন। প্রথমে বনপাড়া পাটোয়ারী হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পথে তিনি দুর্ঘটনার বিবরণ দেন।
রমজান আলী জানান, তিনি চালকের আসনের দুই সারি পেছনে বসেছিলেন। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বাসটি পাবনার ঈশ্বরদীতে পৌঁছালে চালক নিজের আসন ছেড়ে উঠে যান। এরপর বাস চালাতে শুরু করেন সুপারভাইজার সোহেল রানা। বাসের দরজা বন্ধ করে চালক ও তাঁর সহকারী পেছনের আসনে ঘুমিয়ে পড়েন বলে দাবি করেন তিনি।
রমজান আলীর ভাষ্য, এর প্রায় এক ঘণ্টা পর বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
বাসটির আরও দুই যাত্রী ইয়াকুব আলী ও আব্দুস সালাম আহত হয়ে বনপাড়া পাটোয়ারী হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তাঁরাও জানান, দুর্ঘটনার সময় সুপারভাইজার বাসটি চালাচ্ছিলেন এবং চালক ও সহকারী পেছনের আসনে ছিলেন। তাঁদের দাবি, বাসটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল।
যাত্রীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বরগুনা জেলা শহর থেকে যাত্রা শুরু করে বাসটি। পরে পাবনার ঈশ্বরদীতে কিছুক্ষণ বিরতির পর আবার যাত্রা শুরু হয়। এর কিছু সময় পরই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
মঙ্গলবার দুপুরে সোহেল রানার মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়ি ফরাদপুরে পৌঁছায়। মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার পর স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তাঁকে শেষবারের মতো দেখতে গ্রামের অনেক মানুষ বাড়িতে ভিড় করেন।
সোহেলের স্ত্রী ডলি বেগম জানান, আগে তাঁর স্বামী বাস চালালেও প্রায় দুই বছর ধরে সুপারভাইজারের কাজ করছিলেন। তাঁর উপার্জনেই পরিবারের খরচ চলত। স্বামীকে হারিয়ে সন্তানদের নিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার ঘটনায় মামলা করা হবে। মামলার ভিত্তিতে তদন্ত চালানো হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুর্ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।



