সময় এসেছে নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম বন্দর পুনরুদ্ধারের: বিজেপি এমপি

বাংলা টিভি ডেস্ক: বাংলাদেশের নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চল ভারতের কাছে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি তুলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবে। শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর দেশভাগকালীন নীতির সমালোচনা করে এমন মন্তব্য করেন।
নিশিকান্ত দুবের অভিযোগ, তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল এসব অঞ্চল। কিন্তু নেহরু জোরপূর্বক সেগুলো তৎকালীন পাকিস্তানের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। বিজেপির এই সংসদ সদস্যের দাবি, তৎকালীন ত্রিপুরার মহারাজা বীর বিক্রম সিং নেহরুর এমন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন। একই সঙ্গে সিলেট ও চট্টগ্রাম নিয়ে গণভোট আয়োজনের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে ১৯৪৬ সালের নোয়াখালীর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রসঙ্গ টেনে নিশিকান্ত দুবে নেহরুর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন। তার মতে, চট্টগ্রাম বন্দর ভারতের নিয়ন্ত্রণে না থাকার কারণে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নোয়াখালী, সিলেট ও চট্টগ্রাম পুনরুদ্ধারের সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে নিশিকান্ত দুবের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন ত্রিপুরার রাজপরিবারের বংশধর এবং তিপ্রা মথা দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোৎ বিক্রম মাণিক্য দেববর্মা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, দেশভাগের সময় ত্রিপুরার বিস্তীর্ণ অঞ্চল পাকিস্তানের হাতে চলে যাওয়া ছিল ঐতিহাসিক ভুল।
প্রদ্যোৎ মাণিক্যের মতে, চট্টগ্রাম বন্দর ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দেশটির অবস্থান আরও শক্তিশালী হতো। এমনকি শিলিগুড়ি করিডর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত, সেটিকে ঘিরে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগও অনেকটা কমে যেত।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন বিজেপি নেতা নিশিকান্ত দুবে। তিনি ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা লোকসভা আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তার সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারত-বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ভূখণ্ড ও দেশভাগের প্রসঙ্গ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।



