বাংলাদেশ

এপারে আসতে হলে ফিটফাট হয়ে আসতে হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

বাংলা টিভি ডেস্ক: ডিসেম্বরে একটি দলের নেত্রীর দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে দেওয়া বক্তব্যকে ‘ফাঁকা আওয়াজ’ বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, দেশে ফিরতে হলে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের অনেক কিছু মোকাবিলা করতে হবে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইল শহীদ মিনারে সদর উপজেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক আন্দোলনে একটি দলের নেতাকর্মীরা যে অবস্থায় ছিলেন, সেভাবেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। এখন ডিসেম্বরে তাদের নেত্রী দেশে ফিরবেন বলে নানা কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু এসব বক্তব্যকে গুরুত্ব না দিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো অপশক্তিই ষড়যন্ত্রে সফল হতে পারবে না।

বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তিনি নিজেই নেতাকর্মীদের জনগণের জন্য কাজ করা এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের শিক্ষা দিচ্ছেন। জনগণের দেওয়া দায়িত্ব যথাযথ নিয়ম ও শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে পালন করতে হবে।

৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন টুকু

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের মানুষ গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু তৎকালীন শাসনামলে মানুষের বাকস্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছিল এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালানো হয়েছিল। এসব পরিস্থিতির বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে সিপাহি-জনতার বিপ্লব সংঘটিত হয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সেই ঘটনাপ্রবাহ বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করে।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের প্রত্যেক নেতাকর্মীর কাজের মূল্যায়ন করা হবে। তবে সবাইকে সাংগঠনিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। কারও ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের কারণে দল যেন বদনামের মুখে না পড়ে এবং সাধারণ মানুষ যেন ভোগান্তিতে না পড়ে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জনগণ বিএনপিকে ভোট দিয়েছে তাদের সেবা ও এলাকার উন্নয়নের জন্য। তাই জনগণের কাছে দলের নেতাকর্মীদের জবাবদিহি করতে হবে। টাঙ্গাইলের উন্নয়নে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, অপরাধের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক না কেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আজগর আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন ও সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিজ উদ্দিন বিপ্লব। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সমবায়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের আহ্বান

এর আগে রোববার বেলা ১১টায় টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

তিনি বলেন, একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্লোগান ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ সামনে রেখে জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পাশাপাশি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, গ্রামপর্যায়ে ছোট ছোট সমবায় সমিতি গড়ে তুলে সাধারণ মানুষকে সংগঠিত ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে হবে। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে সমবায় ব্যবস্থা মানুষের আত্মনির্ভরশীলতা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সমবায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

জেলা প্রশাসন ও সমবায় বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার। অনুষ্ঠানে সমবায়ীদের মধ্যে ঋণের চেক বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী এবং পরে সমবায় পণ্য মেলা পরিদর্শন করেন। এ সময় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সমবায়ী ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button