বাংলাদেশ

ফরিদপুরে মন্দিরের সেবায়েতের পরিবারের বিরুদ্ধে মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগ

সদরপুর, ফরিদপুর প্রতিনিধি( ডিজিটাল): ফরিদপুরের নগরকান্দায় প্রায় চার দশকের পুরোনো পশ্চিমপাড়া সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরের জমি দখলের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মন্দিরের সাবেক সভাপতি ও সেবায়েত নারায়ণ চন্দ্র মণ্ডলের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের দাবি, নারায়ণ চন্দ্র মণ্ডলের মৃত্যুর পর তাঁর তিন ছেলে মন্দিরের জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এর প্রতিবাদে জমি উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার চৌমুখা পশ্চিমপাড়া সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারী-পুরুষসহ কয়েক শতাধিক মানুষ অংশ নেন।

প্রায় এক ঘণ্টার মানববন্ধনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, মন্দিরের জমিটি দীর্ঘদিন ধরে সেবায়েত ও সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র মণ্ডলের নামে ডিসিআর থাকায় বর্তমানে জমির মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নারায়ণ চন্দ্র মণ্ডলের মৃত্যুর পর তাঁর তিন ছেলে মন্দিরের জমি দখলের চেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যে ওই জায়গায় গরুর খামার, খড়ের মাচাসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এমনকি মন্দিরের জমি বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

মানববন্ধনে বক্তারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই সর্বজনীন মন্দিরের জমি মন্দিরের নামে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত পূজা-অর্চনা নির্বিঘ্নে করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মন্দিরটির স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তুলতে সরকারি সহযোগিতারও দাবি জানান তাঁরা।

মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মন্দির চত্বর থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মন্দিরটির মোট জমির পরিমাণ প্রায় ৩২ শতাংশ। জমিটির প্রকৃত মালিক ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক। তবে দীর্ঘদিন নারায়ণ চন্দ্র মণ্ডল মন্দিরের সভাপতি ও সেবায়েতের দায়িত্বে থাকায় তাঁর নামে জমিটির ডিসিআর করা হয়েছিল বলে স্থানীয়দের দাবি।

জমি দখলের অভিযোগের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। তবে আন্দোলনকারীরা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসেননি। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হবে বলে জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button