মানসিক সেবায় হাজার হাজার মাঠপর্যায়ের কর্মীর প্রয়োজন: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

বাংলা টিভি ডেস্ক: দেশের মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে মাঠপর্যায়ে হাজার হাজার প্রশিক্ষিত সমাজকর্মীর (সোশ্যাল ওয়ার্কার) প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, শুধু দক্ষ ও জ্ঞানী মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করলেই হবে না, গ্রামে ও ইউনিয়নে ফিল্ড লেভেলে কাজ করার মতো তৃণমূল কর্মী গড়ে তুলতে হবে।
রোববার (১০ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়লে আয়োজিত ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কারদের জাতীয় সেমিনারে এসব কথা বলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের জনবল তৈরি হলেও সঠিক জায়গায় সঠিক লোক ডেপ্লয় (পদায়ন) না করার কারণে সমস্যাগুলো সঠিকভাবে অ্যাড্রেস করা সম্ভব হচ্ছে না। এ জন্য একটি সমন্বিত উদ্যোগ (কো-অর্ডিনেটেড অ্যাপ্রোচ) প্রয়োজন।’
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত সময়ে ইচ্ছামাফিক ও হুটহাট বিভিন্ন সংস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, যা বর্তমানে জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্বিন্যাস ও কাস্টমাইজ করতে হচ্ছে। উদাহরণ টেনে সমাজকল্যাণ কাউন্সিলের রেজিস্ট্রারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, রেগুলেটরি অথরিটির প্রধান বা রেজিস্ট্রার হিসেবে একজন যুগ্ম সচিব দায়িত্ব পালন করেন, যিনি আজ এক মন্ত্রণালয়ে তো কাল অন্য মন্ত্রণালয়ে চলে যান। ফলে সঠিক তদারকি সম্ভব হয় না। এই গ্রে এরিয়াগুলো ঠিক করতে এরইমধ্যে একটি কার্যকরী দল (ওয়ার্কিং গ্রুপ) করে দেয়া হয়েছে।
সামাজিক অপরাধ ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, চেম্বারে বসে শুধু ওষুধ খাইয়ে বা সাইকিয়াট্রিক চিকিৎসা দিয়ে বড় সামাজিক সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক ও মানসিক পুনর্বাসন (ক্লিনিক্যাল রিহ্যাবিলিটেশন)।
উত্তরা বা খুলনার ভবঘুরে ও ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু তিন মাসের জন্য ধরে রেখে জিম্মায় ছেড়ে দিলে কাজ হয় না; মোটিভেশন প্রোগ্রামগুলো কার্যকর করতে এবং মানসিক পরিবর্তন আনতে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক চিকিৎসা প্রয়োজন।



