বাংলাদেশ

‎গাইবান্ধায় টিকটকে পরিচয়, বিষপানে স্কুলছাত্র ও গৃহবধূর মৃত্যু

গাইবান্ধা ( ডিজিটাল ) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে পরিচয় থেকে গড়ে ওঠা সম্পর্কের জেরে বিষাক্ত পদার্থ সেবনে এক স্কুলছাত্র ও এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অসম্মতির পর তাঁরা কীটনাশকজাতীয় পদার্থ পান করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনেরই মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার পূর্ব রাঘবপুর গ্রাম থেকে আল আমিন মিয়া (১৫) নামের ওই স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে ওই গ্রামের আজাদুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

অন্যদিকে, মারা যাওয়া গৃহবধূর নাম তাসলিমা আক্তার তাজমিন (২৫)। তাঁর বাবার বাড়ি দক্ষিণ শ্যামপুর গ্রামে। তিনি সাইফুল ইসলামের মেয়ে এবং পদুমশহর জোরডোবা গ্রামের ফরহাদ মিয়ার স্ত্রী। তাঁর এক সন্তান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টিকটকের মাধ্যমে আল আমিন ও তাসলিমার পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত রোববার (১১ অক্টোবর) বিয়ের দাবিতে তাসলিমা আল আমিনের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন। তবে বয়সের ব্যবধান এবং পারিবারিক ও সামাজিক বাস্তবতার কথা বিবেচনা করে পরিবারের সদস্যরা এ সম্পর্ক মেনে নিতে রাজি হননি বলে জানা গেছে।

এরপর সোমবার (১২ অক্টোবর) জমিতে ব্যবহারের জন্য রাখা কীটনাশকজাতীয় পদার্থ সেবন করেন তাঁরা। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত দুজনকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর আল আমিনের স্বজনেরা তাঁর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। অন্যদিকে, তাসলিমার মরদেহ হাসপাতালে রাখা হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ পূর্ব রাঘবপুর গ্রামে গিয়ে আল আমিনের মরদেহ উদ্ধার করে।

সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, খবর পেয়ে পুলিশ আল আমিনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। পুরো ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button